Home » MR Blog

MR Blog

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং এবং পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যার কারণে অর্থনীতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ১। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ঃ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৭৩৮ মার্কিন ডলার। গত এক দশকে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬.৩ শতাংশ। ২। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জনজীবনঃ সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকার দরুণ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় এক দারুণ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখান থে‌কে বে‌ড়ি‌য়ে আসার একমাত্র পথ হ‌লো দে‌শে সুশাসন নি‌শ্চিতকরণ ও ব্যবসাবান্ধব পরি‌বেশ সু‌ষ্টি করা। ৩। ব্যাংকিং খাত ও ঋণ নির্ভরতাঃ ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপী ঋণের বোঝা এবং তারল্য সংকট একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। বর্তমান সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। চল‌তি অর্থবছ‌রের গত সাত মা‌সে সরকার‌কে বা‌জে‌টের ঘাট‌তি মেটা‌তে প্রায় ৭৩ হাজার কো‌টি টাকা ঋণ কর‌তে হ‌য়ে‌ছে যার সিংহভাগই ব্যাংকিং চ্যানে‌লের মাধ্যমে। আভ্যন্ত‌রিন আয়ের উৎসের দি‌কে যত্নবান না হ‌লে ভ‌বিষ্যতের জন্য সেটা উদ্বেগজনক হ‌বে। ৪। বৈদেশিক রিজার্ভ ও বিনিয়োগঃ আমদানির চাপ এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অস্থিরতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অ‌স্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং তারল্য সংকটের কারণে নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে মন্থরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং দে‌শে অর্থনী‌তির চাকা সচল রাখ‌তে দেশ‌কে সমৃ‌দ্ধির দি‌কে এগি‌য়ে নি‌তে ব্যাপকভা‌বে বেসরকারী বি‌নি‌য়োগ বৃদ্ধি কর‌তে হ‌বে নইলে দে‌শের উন্নয়ন অগ্রগ‌তি সবই এক প্রকার থে‌মে যা‌বে। ৫। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সঃ তৈরি পোশাক (RMG) খাত এবং জ পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ২০২৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪% এসেছে পোশাক খাত থেকে। তাই রপ্তানীর অন্যান্য উৎস দি‌কে দৃ‌ষ্টি দেয়া দরকার। ৬। ভবিষ্যৎ প‌রিকল্পনাঃ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, এই উত্তরণ টেকসই করতে ব্যাংক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য।
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিতে থাকা ‘লাল’ শ্রেণি থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। প্রায় ৩ বছর ধরে বাংলাদেশ এই ঝুঁকিতে আছে। বিগত সম‌য়ে নানা উদ্যোগে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও গত ৫ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরে বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন তৈরি করে‌ছে। অবশ্য গত নভেম্বরের পর বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির আরও অবন‌তি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ১০ থেকে ১২ মাসের খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে তা‌তে দেখা যায় বাংলাদেশ লাল তালিকায় আছে। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না। সাম্প্রতিক সম‌য়ের মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়বে। ১০ মাস ধরে বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও ১৩টি দেশ লাল শ্রেণিতে আছে। দেশগুলো হলো ইথিওপিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, ঘানা, মঙ্গোলিয়া, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইউক্রেন, জাম্বিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, মলদোভা ও রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশের আমদানির ওপর প্রভাব ফেলবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিবে। পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমরা মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যর্থ হয়েছি। বিশ্বব্যাংক খাদ্য মূল্যস্ফীতি কোন দেশে কত তা চি‌হ্নিত কর‌তে বিভিন্ন দেশকে চার শ্রেণিতে ভাগ করেছে। যেসব দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি (৫ হ‌তে ৩০)% ম‌ধ্যে তা‌দের “লাল” শ্রেণী‌তে রাখা হ‌য়ে‌ছে। এসব দেশ ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও ‌বিপদজনক অবস্থায় র‌য়ে‌ছে। ৩০% বেশী খাদ্য মূল্যস্ফীতি থাকা দেশগু‌লি “বেগু‌নি শ্রেণী‌তে” রাখা হ‌য়ে‌ছে। এই শ্রেণী দেশগু‌লি স‌র্বোচ্চ ঝুঁ‌কিপূর্ণ অবস্থায় র‌য়ে‌ছে যেমন গত ৯ মাস ধ‌রে বেগুনি শ্রেণিতে আছে মালাউয়ি। ৮ মাস ধরে ইরান ও জাম্বিয়া। আর ৭ মাস বেগুনি শ্রেণিতে আছে তুরস্ক ও আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া (২ থেকে ৫)% মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতির দেশগুলোকে ‘হলুদ’ ও ২% এর কম মূল্যস্ফীতির দেশগুলোকে ‘সবুজ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৭২টি দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিবিএসের হিসাবে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৩০%, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি। গত বছরের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০.৭২% ছিল। এরপর খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে। এক পর্যায়ে সাত অঙ্কের ঘরে নামে। পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.০১%। গত ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৩০% অর্থ হ‌লো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খাবার কিনতে যদি ১০০ টাকা খরচ হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খাবার কিনতে লাগল ১০৯ টাকা ৩০ পয়সা। প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ৯ টাকা ৩০ পয়সা। এর মানে, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের খাবার খরচ প্রায় এক-দশমাংশ বেড়েছে। এটি ধনী–গরিব নির্বিশেষ গড় হিসাব। গরিব, মধ্য ও নিন্ম বিত্ত শ্যেণীর মানুষের আয়ের বড় অংশ খাবারে খরচ করতে হয়। অনেকের আয়ের দুই–তৃতীয়াংশই খাবার কিনতে চলে যায়। মূল্যস্ফীতি এক ধরনের করের মতো। মধ্য বিত্ত শ্রেণীর আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। আয় না বাড়লে তারদর খাবারের তালিকা ক্রমান্ব‌য়ে ছোট হ‌য়ে যায়। তালিকায় থাকা বাকি দেশগুলো গত এক বছরে কখনো লাল, কখনো বেগুনি, কখনো বা হলুদ বা সবুজ তালিকায় রয়েছে। কেউ নিজেদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির উন্নতি করেছে, কারও অবনতি হয়েছে। দেশকে এ অবস্থা থে‌কে বাঁচা‌তে চাইলে কৃ‌ষি এবং কৃ‌ষি অর্থনী‌তির উপর জোড় দি‌তে হ‌বে। শুধু মু‌খে মু‌খে না প্রকৃত অ‌র্থে কৃ‌ষি সেক্ট‌রে সরকা‌র যত বেশী যন্তবান হ‌বেন খাদ্য নিরাপত্তা তত বৃ‌দ্ধি পা‌বে। (সহ‌যো‌গিতায়ঃ প্রথম আলো)
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং এবং পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যার কারণে অর্থনীতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ১। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ঃ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৭৩৮ মার্কিন ডলার। গত এক দশকে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬.৩ শতাংশ। ২। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জনজীবনঃ সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে থাকার দরুণ নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় এক দারুণ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখান থে‌কে বে‌ড়ি‌য়ে আসার একমাত্র পথ হ‌লো দে‌শে সুশাসন নি‌শ্চিতকরণ ও ব‌্যবসাবান্ধব পরি‌বেশ সু‌ষ্টি করা। ৩। ব্যাংকিং খাত ও ঋণ নির্ভরতাঃ ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপী ঋণের বোঝা এবং তারল্য সংকট একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। বর্তমান সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। চল‌তি অর্থবছ‌রের গত সাত মা‌সে সরকার‌কে বা‌জে‌টের ঘাট‌তি মেটা‌তে প্রায় ৭৩ হাজার কো‌টি টাকা ঋণ কর‌তে হ‌য়ে‌ছে যার সিংহভাগই ব‌্যাংকিং চ‌্যা‌নে‌লের মাধ‌্যমে। আভ‌্যন্ত‌রিন আয়ের উৎসের দি‌কে যত্নবান না হ‌লে ভ‌বিষ‌্যতের জন‌্য সেটা উদ্বেগজনক হ‌বে। ৪। বৈদেশিক রিজার্ভ ও বিনিয়োগঃ আমদানির চাপ এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অস্থিরতা দেখা গেছে। মধ‌্যপ্রাচ্যে অ‌স্থিরতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং তারল‌্য সংকটের কারণে নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে মন্থরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং দে‌শে অর্থনী‌তির চাকা সচল রাখ‌তে দেশ‌কে সমৃ‌দ্ধির দি‌কে এগি‌য়ে নি‌তে ব‌্যাপকভা‌বে বেসরকারী বি‌নি‌য়োগ বৃদ্ধি কর‌তে হ‌বে নইলে দে‌শের উন্নয়ন অগ্রগ‌তি সবই এক প্রকার থে‌মে যা‌বে। ৫। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সঃ তৈরি পোশাক (RMG) খাত এবং জ পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ২০২৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪% এসেছে পোশাক খাত থেকে। তাই রপ্তানীর অন‌্যান‌্য উৎস দি‌কে দৃ‌ষ্টি দেয়া দরকার। ৬। ভবিষ্যৎ প‌রিকল্পনাঃ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, এই উত্তরণ টেকসই করতে ব্যাংক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য।
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ টন বর্জ্য উৎপাদন করে। ধারণা করা যায় আগামি ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এটি ৭৫০ টন ছাড়িয়ে যাবে। অপরিকল্পিত নগরায়নের বাস্তবতায় রাজশাহী জেলার ১৪টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টিতেই এখন পর্যন্ত কোনো আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ডাম্পিং স্টেশন) গড়ে ওঠেনি। ফলে এসব এলাকার প্রতিদিনের বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ৫টা নদী—স্বরমঙ্গলা, বরাহী, নবগঙ্গা, বড়নই, হোজা-তে গিয়ে পড়ছে। এই সব নদীগুলো এখন কালো, দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৥ রাজশাহী শহরের, নওহাটা, বাগমারা ও তাহেরপুর পৌরসভায় বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য আর মেডিকেল বর্জ্য সবই বড়নই নদীতে গিয়ে পড়ছে।৥ দুর্গাপুর পৌরসভার বর্জ্য যায় হোজা নদীতে।৥ গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্জ্যের শেষ ঠিকানা পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান। কাটাখালী পৌরসভার বর্জ্য ফেলার কথা রাজশাহী সিটি হাটের ভাগাড়ে। যদিও বেশির ভাগ ময়লা বাজার এলাকার ড্রেনে ফেলা হয়। ফলে বর্ষার সময় ড্রেন ভরে গিয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।৥ বাঘা পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত জায়গা থাকলেও সেখানেও নিয়ম মানা হয় না। পৌর এলাকার শাহী মসজিদের পুকুরে নিয়মিত আবর্জনা ফেলা হয়। পুকুরে নিয়মিতভাবে বর্জ্য ফেলায় পানি প্রচণ্ড দুর্গন্ধ এবং দূষিত হচ্ছে যার কারণে পুকুরে গোসল করলে চর্মরোগ হয়। পুকুরের পাশাপাশি প্রায়ই উন্মুক্ত জায়গা ও ড্রেনেও আবর্জনা ফেলা হয়। তাতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জমে থাকা পানিতে মশা-মাছি জন্মায়। সেগুলোর মাধ্যমে রোগ ছড়ায়। যতদুর জানা যায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য রাজশাহীর কাটাখালী, তাহেরপুর, বাঘা ও গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ৬ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্য পরিবহনের যানবাহন, ডাস্টবিন ও সংগ্রহভ্যান কেনার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত জমি না পাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থানীয়ভাবে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘসময়েও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কেনা যানবাহন_সরঞ্জাম ব্যবহার না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি পৌরসভা প্রতিবছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রায় দুই কোট টাকা ব্যয় দেখালেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘অপরিকল্পিত ও অসচেতনভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া বর্জ্য থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণে হাঁপানি, ফুসফুস ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।’ পচনশীল বর্জ্য থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, যা নানা রোগের কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি। পাশাপাশি, নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এবং বর্জ্য আলাদা করে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’ প্রতিদিন আমরা যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করছি, তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে রাজশাহীর নদী, কৃষি, মাটি সব বিষাক্ত হয়ে যাবে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে এর মাশুল স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রে দিতে হবে।’ ‘মানবসৃষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য এখনো নির্দিষ্ট জায়গা পাওয়া যায় নি। খোঁজা হচ্ছে। পেলেই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ – ফলে পানি-বাহিত রোগ, চর্মরোগ বাড়ছে, আর কৃষিজমির খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকিতে রয়েছে।মেডিকেল বর্জ্য ভয়াবহ ঝুঁকিতেঃ–২০২৪ সালে মাসিক বর্জ্য প্রায় ৫৮,০০০কেজি ছাড়িয়েছে- যার মধ্যে ৮৩.২%ই সংক্রামক বর্জ্য–কিন্তু হাসপাতালে মাত্র ৩% বিন সঠিকভাবে রঙিন কোড করা,— মাত্র ৩% প্যাথলজি স্যাম্পল বেসিনে–৮% ড্রেনে ফেলা হয়—–৭২% কর্মী নানা সংক্রামক অসু‌খে । প্রোপার প্রশিক্ষণসহ সবকিছুতেই বড় ঘাটতি’র কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ, ডায়রিয়ার মতো সংক্রামক ব্যাধি। পুরো জেলায় জনসংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। গড়ে উঠছে নতুন বসতি, হাটবাজার। এমন অবস্থায় বর্জ্য আধু‌নিক ব্যবস্থাপনা না থাকা জনস্বাস্থের জন্য চরম হুমকি। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি পৌরসভার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো বর্জ্য অপসারণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার মধ্যে কেবল চারঘাট পৌরসভায় কিছুটা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সেটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। নদী, পুকুর ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং এসব জায়গা থেকে রোগ ছড়াচ্ছে। পরিবেশগত সমস্যাগুলো আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’  RCC এখন কি করছেপ্রজেক্ট: “Modernization of waste management in Rajshahi City” বাস্তবায়ণে বায়া-দুয়ারি এলাকায় প্রায় ১০৫ একর জমি বাছাই হয়েছে। • পরিকল্পনাঃ– হাইজেনিক ল্যান্ডফিল, বর্জ্য শোধনাগার, রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট,– স্লটারহাউস, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন, ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট • লক্ষ্যঃ-গন্ধ ও জীবানুমুক্ত-পরিচ্ছন্ন শহরের বাস্তব চিত্র অচিরেই রাজশাহীবাসী দেখতে পাবেন বলে আশা করি। সম্প্রতি এপ্রিল ২০২৬-এ RCC ডাচ কোম্পানি Sweep Smart-এর সাথে ডিজিটাল মনিটরিং আর ইকো-ফ্রেন্ডলি বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করেছে। ওয়েস্ট-টু-এনার্জি সম্ভাবনাঃগবেষণায় দেখা গেছে, রাজশাহীর ৭৫.৮% জৈব বর্জ্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার দিয়ে বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব। ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট বছরে ১৮৭ GWh বিদ্যুৎ দিতে পারে।
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
বাংলাদেশের উন্নয়নে বেশ কিছু বড় সম্ভাবনাময় জায়গা র‌য়ে‌ছে। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর অবস্থান—এই তিনটা মিলে দেশটাকে অ‌নেক ভালো একটা পজিশনে রেখেছে।বাংলাদেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাগু‌লোঃ – জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ: দেশের ৬৫% এর বেশি মানুষ কর্মক্ষম। তরুণ বয়সের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ঠিকভাবে প্রশিক্ষ‌ণ দ্বারা দক্ষ করে তুলতে পারলে উৎপাদন আর উদ্ভাবন দুটোই বাড়বে। – তৈরি পোশাক শিল্প: বিশ্বে ২য় বৃহত্তম RMG রপ্তানিকারক। এই খাতকে আরও ভ্যালু-অ্যাডেড প্রোডাক্ট আর টেকসই উৎপাদনের দিকে নিলে সময় বাচঁ‌বে এবং আয়ও অনেকগুণ বাড়বে। – কৌশলগত অবস্থান: বাংলা‌দে‌শের অবস্থান ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঠিক মাঝখানে। বঙ্গোপসাগরের তীরে হওয়ায় বাণিজ্য ও লজিস্টিক হাব হওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং সৃষ্টি কর্তা প্রদত্ত এ সুবিধা কে কাজে লাগতে পারলে আর কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না । – ডিজিটাল অর্থনীতি ফ্রিল্যান্সিং: আইটি আউটসোর্সিং আর স্টার্টআপে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে পরিচিত এক নাম। ফ্রিল্যান্সিং বাংলা‌দে‌শে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটা খাত। অন লাইনে  শ্রম সরবরাহ ক‌রে আমরা এখন বি‌শ্বে ২য় অবস্থা‌নে র‌য়ে‌ছি। দে‌শে ৬.৫ লাখের বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার আছে। তথ্য বলে ফিল্যান্সাররা বছ‌রে প্রায় ১০০ মি‌লিয়ন ডলা‌রের বে‌শি আয় করছেন। ঘ‌রে ব‌সে ডলার আয় করে, নি‌জের সম‌য়ের স্বাধীনতা__ইত্যােদি কার‌ণে তরুণদের কা‌ছে ফ্রিল্যান্সিং এখন অ‌নেক জন‌প্রিয়। – কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ: ধান, মাছ, সব‌জি উৎপাদনে বিশ্বে আমরা ১ম সারিতে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আর এগ্রো-প্রসেসিংয়ে স‌ঠিকভা‌বে বিনিয়োগ বাড়া‌লে রপ্তানিও বহুগুণ বাড়বে। এখন সময় বদলেছে কাজই ১০০ বি‌লিয়ন ডলার রপ্তানী আয় অ‌লীক কোন কল্পনা হ‌বে না। – রেমিট্যান্স: প্রতিবছর ২০+ বিলিয়ন ডলার আসে প্রবাসী আয় থেকে। বৈধ চ্যানেল বাড়িয়ে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে এটা আরও বাড়বে। – নবায়নযোগ্য জ্বালানি: সোলার হোম সিস্টেমে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত এক নাম । উপকূলীয় এলাকায় বায়ু বিদ্যুৎ আর সোলার পার্কের বড় সম্ভাবনা আছে। – ব্লু ইকোনমি:সমুদ্র সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন, শিপিং_বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বিশাল অর্থনৈতিক  সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বল‌তে গে‌লে এখনো অনেকটাই অব্যবহৃত। সুতরাং এই সকল চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান, দুর্নীতি কমানো আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—ইত্যাদি ঠিকঠাক ভাবে চললে ২০৩০ সা‌লের ম‌ধ্যে বাংলা‌দেশ উন্নত দে‌শের লক্ষ‌্য অর্জন কর‌তে পার‌বে ব‌লে আশা রা‌খি।
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
কৃষি এখন আর শুধু “লাঙল-জোয়ালের” কাজ নয়। এটি আর আগের আমলের বাপ-দাদার পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষিত মানবসম্পদ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের সংমিশ্রণে কৃষি আজ একটি সম্ভাবনাময় ও স্মার্ট ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ সারা বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য কৃষি এখন একটি শক্তিশালী বিকল্প পেশা হিসেবে উঠে আসছে। 🔍 কেন কৃষি এখন তরুণদের জন্য বড় সুযোগ? একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, কৃষি খাতের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে এবং এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ— 📊 ১. কঠিন চাকরির বাজার বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ লাখ বিদেশে চলে যায়। অর্থাৎ, প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ তরুণ বেকার থেকে যাচ্ছে। এই বিশাল সংখ্যক যুবসমাজের জন্য কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পেশা হতে পারে সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪৫% মানুষ কৃষি খাতে যুক্ত। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য ও সম্পূরক খাদ্যের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ফলে কৃষি খাতে নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 🌾 ২. উত্তরাঞ্চলের বিশেষ সুবিধা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল কৃষির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই অঞ্চলের জমি উর্বর এবং তুলনামূলকভাবে জমির মূল্যও কম। এখানে— শ্রমিক সহজলভ্য শ্রমের পারিশ্রমিক তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় কম তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই অঞ্চলে এখনও প্রসেসিং, আধুনিক মার্কেটিং এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে ঘাটতি রয়েছে। 👉 এখানেই শিক্ষিত তরুণদের জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে। তারা যদি এই খাতে প্রযুক্তি ও নতুন চিন্তা নিয়ে আসে, তাহলে কৃষিকে আরও লাভজনক ও আধুনিক করে তুলতে পারবে। 💰 ৩. কম পুঁজিতে শুরু করার সুযোগ কৃষি এমন একটি খাত যেখানে খুব বেশি মূলধন ছাড়াই কাজ শুরু করা সম্ভব। মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেই ছোট পরিসরে— মাছ চাষ গবাদিপশু পালন সবজি বা ফল চাষ শুরু করা যায়। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং ধৈর্য থাকলে ৩-৪ বছরের মধ্যেই একজন উদ্যোক্তা লাখপতি এমনকি কোটিপতিও হতে পারেন—এটা এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব। 💧 ৪. পানির সহজলভ্যতা বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় পানি সহজেই পাওয়া যায়। খাল-বিল, নদী এবং ভূগর্ভস্থ পানির কারণে কৃষিকাজের জন্য পানি বড় কোনো সমস্যা নয়। যদিও কিছু এলাকায় যেমন বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট দেখা যায়, তবুও আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই সমস্যাও অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব। তবে মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা দেখা দিতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং মানসিক প্রস্তুতি। 🧠 ৫. মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানসিকতার পরিবর্তন। অনেকেই এখনও মনে করেন কৃষি মানেই গরিবের কাজ বা কম মর্যাদার পেশা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকের কৃষি— প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনমুখী স্মার্ট কৃষকরা এখন ড্রোন, অটোমেশন, উন্নত ফিড, এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াচ্ছেন এবং ভালো আয় করছেন। সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং ভর্তুকি থাকলেও এগুলো আরও কার্যকরভাবে প্রচার করা প্রয়োজন, যাতে সমাজের সবার কাছে কৃষির মর্যাদা পৌঁছে যায়। 🌟 উপসংহার কৃষি এখন শুধু জীবিকা নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার। যেখানে—✔ নিজের জন্য কাজ করার স্বাধীনতা✔ কম বিনিয়োগে শুরু করার সুযোগ✔ উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা✔ দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান সবকিছু একসাথে পাওয়া যায়। তরুণরা যদি সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে কৃষিই হতে পারে তাদের সফলতার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। 👉 সময় এসেছে—চাকরির পেছনে না ছুটে, নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করার। আর সেই পথের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে আধুনিক কৃষি।
  Categories : Uncategorized  Posted by Mr Arif  No Comments
লেখাপড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন য‌দি হয় জীবন ত‌বে প্রশিক্ষণ হ‌লো জী‌বিকা আর দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন অ‌ভিজ্ঞতা। জীব‌নের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চি‌কিৎসা যেমন প্রয়োজন তেম‌নি আধু‌নিক মানুষ হি‌সে‌বে বেঁচে থাকার জন্য লেখাপড়ার বিকল্প নেই। লেখাপড়া শে‌ষে একজন তরুণ যত‌বে‌শি প্রশিক্ষণ গ্রহণ কর‌তে পার‌বেন জীব‌নের লক্ষ্য ও স্বপ্ন তত সাম‌নে এ‌গি‌য়ে আস‌তে থাকবে। প‌রিপূর্ণ জ্ঞান, প্রশিক্ষণ আর অ‌ভিজ্ঞতা একজন তরুণকে দক্ষ হি‌সে‌বে গ‌ড়ে তুল‌তে সাহাষ্য ক‌রে।একা‌ডে‌মিক পরীক্ষায় ভাল করার জন্যই শুধু লেখাপড়ার উদ্দেশ্য হওয়া উ‌চিত না। জীবন গঠ‌নের জন্য ই পড়া‌লেখা দরকার। আমা‌দের শিক্ষা ব্যবস্থা—কে ৩৬০ ডিগ্রী তে ঘু‌ড়ি‌য়ে দেয়া দরকার। এখ‌নো আমা‌দের লেখাপড়ার উ‌দ্দেশ্য ‌যেন ভাল চাকুরীর ম‌ধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোমলম‌তি শিশুরা ম‌নের আন‌ন্দে যেমন কাটুন দেখ‌তে পছন্দ ক‌রে, ক‌ম্পিউটা‌রে গেমস খেল‌তে পছন্দ ক‌রে সেই আন‌ন্দে পড়া‌লেখা কর‌তে চায় না কেন? কোমলম‌তি শিশুরা লেখাপড়া আর কাটুন বা ক‌ম্পিউটা‌রে গেমস যেটা‌তে আনন্দ পায় সেটা কর‌তেই পছন্দ কর‌বে এটাই স্বাভা‌বিক। তারা পড়া‌লেখার গুরুত্ব বল‌তে কি বুঝ‌বে? অ‌ভিভাবক থেকে সং‌শ্লিষ্ট মহল এ বিষয়গু‌লো কেন ভে‌বে দে‌খেন না? দুঃ‌চিন্তায় অ‌ভিভাবকরা রা‌তের ঘুম নষ্ট না ক‌রে লেখাপড়াতে আনন্দের ব্যবস্থা কর‌তে পার‌লে শিশুরা এম‌নি‌তেই লেখাপড়া‌তে ম‌নো‌নি‌বেশ কর‌বে। শিশুরা যখন পড়া‌লেখা‌তে আনন্দ খুঁজে পে‌তে থাক‌বে তখন সেটা তা‌দের ম‌ধ্যে এমনভা‌বে রপ্ত হবে যে সেটা আমৃত্য চল‌তে থাক‌বে। বর্তমা‌নে দে‌শের জনসংখ্যার প্রায় ৭০% ই তরুণ জন‌গো‌ষ্ঠি। তরু‌ণেরা হ‌লো দে‌শের সম্পদ। এ‌দের থা‌কে ভরপুর জীবনি শ‌ক্তি। দু চোখ ভরা স্বপ্ন আর কাজের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। এরা স্বভাবগত ভা‌বেই হয় প্রতিবাদী তাই সমা‌জের সকল বিশৃখংলা ‌থে‌কে সমাজ কে রক্ষা করার স্বপ্ন দেখ‌তে ভালবা‌সে। কিন্তু কিভা‌বে সেটা তারা জা‌নে না। সমাজ প‌রিবর্তনের প্রথম পদ‌ক্ষেপ হ‌লো নি‌জে‌কে ডে‌ভেলপ করা। নি‌জে‌কে সমা‌জের চো‌খে অনুকরনীয় হি‌সে‌বে গ‌ড়ে তোলা। আর নি‌জে‌কে গ‌ড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন নানা ধর‌ণের প্রশিক্ষণ। উপযুক্ত প্রশিক্ষ‌ণের মাধ্যমে একজন তরুণ তার জীব‌নের লক্ষ্য স্থির কর‌তে পা‌রেন। নি‌জে‌কে যোগ্য হি‌সে‌বে গ‌ড়ে না তু‌লেই তরুণেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সাধারণ একা‌ডে‌মিক সা‌র্টিফি‌কেট গলায় ঝু‌লি‌য়ে চাকুরী বা ব্যবসার বাজা‌রে প্রবেশ করতে চান। অল্প বাধা‌তেই হতাশ হ‌য়ে ভাগ্য কে দোষারোপ কর‌তে থা‌কেন। হতাশা আর ভয় মানুষ‌কে দি‌নে দি‌নে সংকু‌চিত ক‌রে তো‌লে। ফ‌লে ঐ সকল হতাশাগ্রস্থ তরু‌ণের দি‌শেহারা না‌বি‌কের মত জীব‌নের পথ হা‌রি‌য়ে ফে‌লে। এভা‌বেই নির‌বে নিভৃ‌তে এক একটা উজ্জ্বল ন‌ক্ষত্রের পতন ঘ‌টে। সমা‌জে বোঝা বাড়‌তে থা‌কে। সুতরাং তরুণদের দে‌শের সম্প‌দে প‌রিনত কর‌তে হ‌লে সাধারণ পড়া‌লেখার শেষ হবার সা‌থে সা‌থে বি‌ভিন্ন ধর‌ণের প্রশিক্ষ‌ণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। দে‌শের বি‌ভিন্ন সংস্থার উ‌দ্যো‌গে এ ধর‌ণের কিছু প্রশিক্ষ‌ণের ব্যবস্থা থাক‌লেও সেটা প্রয়োজ‌নের তুলনায় অপ্রতুল। উপযুক্ত প্রশিক্ষ‌ণের অভা‌বেই কত অ‌মিত সম্ভবনাময় তরুণ নি‌জের যোগ্যতা প্রমা‌নের আ‌গেই হতাশায় নিম‌জ্জিত হ‌য়ে হা‌রিয়ে যা‌চ্ছে সে হি‌সেব আমরা কয়জন রা‌খি। ম‌নে রাখা প্রয়োজন আগা‌মি শতক হ‌বে মে‌শিন নির্ভর। মে‌শিন নির্ভর সমা‌জে দক্ষতার বিকল্প থাক‌বে না। কারণ কা‌য়িক প্রায় সকল কাজই সমাধা কর‌বে মে‌শিন। শিল্প বিল্পব শুরু পর হ‌তেই মানু‌ষ জ‌নিত কা‌য়িকশ্রম ধী‌রে ধী‌রে ক‌মে আস‌ছে। আগা‌মি শত‌কে আ‌রো অ‌নেক ক‌মে যা‌বে। এমতবস্থায় একজন তরুণ‌ নি‌জে‌কে সমা‌জের সাম‌নে মেলে ধর‌তে চাই‌লে, নি‌জে‌কে আকা‌শের নক্ষ‌ত্রের কাছাকাছি নি‌তে চাই‌লে জ্ঞান, প্রশিক্ষণ আর দক্ষতার বিকল্প নেই।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud  No Comments
বর্তমা‌ন পৃ‌থিবীতে প্রায় ১৯ লক্ষ হেক্টর জ‌মি‌তে ৩২ লক্ষ টন পাট উৎপাদন হ‌য়ে থা‌কে এর ম‌ধ্যে আমা‌দের দে‌শেই প্রায় ৮.৩৫ লক্ষ মে‌ট্রিকটন অর্থাৎ পৃ‌থিবীর মোট উৎপাদ‌নের প্রায় ২৬% পাট এদে‌শে উৎপাদন হ‌চ্ছে। সোনালী ফসল পা‌ট ছিল এক সময় এদে‌শের প্রধান অর্থক‌রী ফসল। পাট শি‌ল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কেন্দ্র ক‌রে ১৯৫১ সা‌লে নারায়নগ‌ঞ্জে গ‌ড়ে উঠে‌ছিল পৃ‌থিবীর বৃহত্তর আদমজী জুট মিল। আলাদা পাট মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয়ে‌ছিল। কিন্তু প্রশ্ন জা‌গে কতটুকু উন্নয়ন হ‌য়ে‌ছে এ শি‌ল্পে? অপার সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সা‌থে এখ‌নো প্রত্যক্ষ ও প‌রোক্ষভা‌বে প্রায় ৪ কো‌টি মানুষ জ‌ড়িত র‌য়ে‌ছেন। শুধুমাত্র স‌ঠিক প‌রিকল্পনা আর যথাযথ ম‌নিট‌রিং এর অভা‌বে ধী‌রে ধী‌রে ‌বিলীন হবার প‌থে এসে দা‌ড়ি‌য়ে‌ছে শিল্পটা। দে‌শে বর্তমা‌নে ৩২টি সরকারী ও ২২১টি বেসরকারী পাটকল থাক‌লেও লোকসানের অজুহা‌তে ৩০টি সরকারী পাটকলই বন্ধ ক‌রে দেয়া হয়ে‌ছে। প্রসংগত উ‌ল্লেখ করা প্র‌য়োজন সরকারী ২৬টি সরকারী পাটক‌লে মোট জ‌মির প‌রিমানই প্রায় ১.৩১৩ একর। অপ‌রিক‌ল্পিত নগরায়‌নের ফ‌লে দে‌শে প্র‌তি‌দিন কৃ‌ষিজ‌মি ক‌মে যা‌চ্ছে সেখা‌নে মৃত প্রায় সরকারী পাটকলের জ‌মিগু‌লো বছ‌রের পর বছর ফে‌লে না‌ রে‌খে কৃ‌ষি কর্মকা‌ন্ডের উ‌দ্যোগ নি‌লেও ‌দে‌শের বিপুল জন‌গো‌ষ্টির খা‌দ্যের চা‌হিদা পূর‌ণে অবদান রাখা সম্ভব হ‌তো। কেন সরকারী পাটকলগু‌লোতে টানা লোকসান হ‌চ্ছে সেটা অনুসন্ধা‌ন করতঃ কার্যকর কোন পদ‌ক্ষেপ কখ‌নো চো‌খে প‌ড়ে‌ছে ব‌লে আমার ম‌নে প‌ড়ে না। কেন লোকসান হ‌চ্ছে এ প্রশ্ন কা‌কে কর‌বো? ‌কে এর উত্তর দে‌বেন জানা‌ নেই।একথা সক‌লেই জা‌না একপ্রা‌ন্তে সরকারী পাটকলগু‌লো যখন লোকসা‌নের অজুহাতে বন্ধ হ‌চ্ছে অন্যপ্রান্তে বেসরকারী পাটকলগু‌লো দিনরাত উৎপাদন ক‌রেও বাজা‌রের চা‌হিদা মোতা‌বক দ্রব্য সরবরাহ কর‌তে পার‌ছে না। ‌উ‌দ্যোক্তাগন আ‌রো নতুন জুট‌মিল তৈরীর জন্য প্রস্তুতি নি‌চ্ছেন। ‌বি‌শ্বের ৫০‌টি দে‌শে পাটজাত দ্রব্য নিয়‌মিত রপ্তানী হ‌য়ে হ‌চ্ছে। ইউঃ ইউ‌নিয়‌নের ২৫টি দে‌শের বাই‌রেও কো‌রিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, অ‌ষ্ট্রেলিয়াসহ আরো ১২০‌টি দে‌শে পা‌টের প‌ণ্যের ব্যাপক চা‌হিদা র‌য়ে‌ছে। তথ্যমতে ‌দে‌শে ক্ষুদ্র ও মাঝা‌রি মি‌লি‌য়ে প্রায় ৭০০ প্রতিষ্ঠান পাটজাত পণ্য তৈরির সা‌থে যুক্ত র‌য়ে‌ছে। দেশীয় উ‌দ্যোক্তাগন ১৫০‌ ধর‌ণের পণ্য উৎপাদন ক‌রে বি‌দে‌শে রপ্তানীও কর‌ছেন। গত ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছ‌রে এ সেক্টর থে‌কে তৈরী দ্রব্য রপ্তানী ক‌রে যথাক্র‌মে ৭৯ কো‌টি ১৩ লক্ষ ও ১১৬ কো‌টি ডলার আয় ক‌রে‌ছে দেশ যা জি‌ডি‌পি‌তে খুবই সামান্য অবদান রাখ‌ছে। অথচ এ‌ শিল্প‌টিই একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল হি‌সে‌বে বি‌বে‌চিত হ‌তো।প‌রি‌শে‌ষে সহজ সরলভা‌বেই বল‌তে চাই, গতানু‌গতিক ব্যবহারের ধারণা থে‌কে বে‌র হ‌য়ে অপার সম্ভাবনাময় শিল্প‌টির প্রতি যত্ন নেয়া প্রয়োজন। পাটজাত দ্রব্যের মাধ্যমে আ‌রো বেশী মানু‌ষের কর্ম সংস্থান সৃ‌ষ্টির পাশাপা‌শি লক্ষ কো‌টি ডলার বি‌দেশ থে‌কে উপার্জন করা এ এখন আর অলীক কোন স্বপ্ন নয়।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud  No Comments
জনসংখ্যার আধিক্যের বিষয়ে পেপার, পত্রিকা, সেমিনার, সেম্পুজিয়ামে নানা কথা হয়। আমরা নিজেরাও চায়ের টেবিলে বা আড্ডাতে জনসংখ্যার আধিক্যের জন্য নানাভাবে আতংকিত থাকি। কিন্তু জনসংখ্যার আধিক্য বোঝা না হয়ে আর্শীবাদ হতে পারে সে বিষয়টা ভেবে দেখার প্রয়োজন বোধ করি না। উন্নত রাষ্ট্র তাদের জনগন কে বোঝা মনে করে না বরং দেশের সম্পদ মনে করে থাকে। সেই সম্পদকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে কাজ শুরু করে। যার দরুণ উন্নত রাষ্ট্রসমুহের জনগোষ্ঠি রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিনত হয়।প্রকৃত উন্নয়ন মানে রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠির মানসিকতার উন্নয়ন। উন্নত মানসিকতার জনগোষ্ঠীই উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারে। মানসিকতার এ উন্নয়ন ঘটাতে প্রয়োজন সুশিক্ষা, উদ্দেশ্যভিত্তিক শিক্ষা, রুচিশীল সংস্কৃতি এবং উন্নত প্রশিক্ষণ। সুশিক্ষা জনগনের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। আবার শিক্ষা বলতে শুধুমাত্র একাডেমিক লেখাপড়া মানে বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান বা ভালো অংক জানাকেই বোঝায় না। এগুলো ছাড়াও সুশিক্ষা মনের ভিত্তিমুলে ধর্মীয় মূল্যবোধ, অনুসন্ধানী মনোভাব ও সৃষ্টিশীল মানসিকতা, সততা, জাগ্রত বিবেক ও মূল্যেবাধ, দেশপ্রেম এবং ন্যায়নিষ্ঠার মতো মানবিক গুনগুলো জেগে উঠাকে বোঝায়। এ গুনগুলোর সূচক যত উপরের দিকে যাবে জনগন তত সুশিক্ষিত হবে। বস্তুত দেশের উন্নয়ন মানে দেশের মানব সম্পদের উন্নয়ন আর মানব সম্পদের উন্নয়ন হলো আর্থ—সামাজিক উন্নয়ন। মানব—সম্পদকে অনুন্নত রেখে কোন প্রকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানব সম্পদের প্রকৃত উন্নয়ন না ঘটিয়ে যদি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয় তবে সেখানে অনুপ্রবেশ ঘটবে দূর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, দুঃশাসন ও দূর্ভেদ্য অন্ধকার। এটাকে আপাত দৃষ্টিতে উন্নয়ন মনে হলেও সে উন্নয়ন সাময়িক, ফুঁ দেয়া ফোলানো বেলুনের মতোই হবে। টেকসই উন্নয়ন হবে না। সে জন্য আমাদের সকলের দুরদর্শী লেন্সওয়ালা চশমা পরা দরকার।উন্নত দেশ ও সমৃদ্ধ জাতি গড়তে প্রয়োজন পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থার। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় জনগনের জন্য পরিকল্পিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কি? শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বই থেকে শেখে এক আর বাইরের পরিবেশ থেকে শেখে উল্টোটা। বইয়ের ঘটনার সাথে বাস্তব ঘটনাকে মেলাতে শেখে না। লেখাপড়া মনের গহীনে চিন্তার উদ্রেক ঘটায় না। মনের মধ্যে কোন সৃষ্টিশীলতা জন্মায় না। জীবনের জন্য শিক্ষা নেই, সমাজের জন্য উপযুক্ত মানুষ হবার শিক্ষা নেই, কর্মমূখী শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য শিক্ষা নেই, নৈতিকতার শিক্ষা নেই অথচ প্রতিদিন দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার হার বেড়েই চলেছে। কতশত কোমলমতি প্রস্ফুরিত হবার আগেই ঝরে যাচ্ছে। অবুঝ শিশুরা জীবনে উন্নতির অর্থ কি—বা বোঝে? প্রকৃত শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের অভাবে কুড়িঁতেই ঝড়ে যাচ্ছে। ফলে এরা অল্প বয়সে বিপথে চলে যাচ্ছে। এভাবেই প্রতিদিন দেশ—সমাজ পিছিয়ে যাচ্ছে, জনগোষ্ঠি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই, উচ্চবাক্যও নেই। একসময় যখন নিজের অক্ষমতার কথা বোঝে তখন আর ফেরার পথ থাকে না। জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন যে অতিরঞ্জিত সচেতন জনগন জানে। আমরা লেখাপড়ার উদ্দেশ্যকে জীবন পরিচালনা জন্য শিক্ষা না ভেবে চাকুরী পাবার সংর্কীণ মানসিকতাতেই রয়ে গেছি। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার সাথে প্রয়োজনীয় স্কীল না শিখে শুধুমাত্র সাধারণ লেখাপড়া শিখে চাকুরীর বাজারে ভীড় করছে যার দরুণ বেকারত্ব দিন দিন বাড়চ্ছে। প্রকৃত শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করা গেলে শুধু অবকাঠমোগত উন্নয়ন দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। অল্প সময়ের মধ্যে তা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।
  Categories : Uncategorized  Posted by Sultan Mahmud  No Comments
২০১৩ সালের তথ্যানুযায়ী দে‌শে ৫কোটি ৮১লাখ মানুষ ক‌র্মের মধ্যে ছিলেন।২০১৭সালের জরিপ অনুযায়ী ৬ কোটি ৮লক্ষ লোক কাজের মধ্যে ছিলেন। অর্থাৎ ৪ বছরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ২৭লাখ।প্রতিবছর ৬ লক্ষ৭৫ হাজার মানু‌ষের কর্মসংস্থান হ‌য়ে‌ছে।বর্তমান সরকা‌রের ২০১৮সা‌লের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল পরবর্তী ৩ বছ‌রে(২০১৯,২০২০ও২০২১)অন্তত ২১লাখ দক্ষ কর্মী বি‌দে‌শে পাঠা‌নো হ‌বে।এখন পর্যন্ত ২,৫ বছ‌রে মাত্র ১১লক্ষ দক্ষকর্মী বি‌দে‌শে যে‌তে পে‌রে‌ছেন। চাকুরী বাজা‌রে এমন ধস নামার অন্যতম প্রধান কারণই হ‌লো করোনা মহামারী।‌দে‌শে প্রতি বছর প্রায় ১৮-২২ লক্ষ কর্মক্ষম মানুষ জব মা‌র্কেটে আস‌লেও প্রায় ১৫লক্ষ তরুণ/তরুণীই নতুন ক‌রে বেকা‌রের তা‌লিকায় নাম লেখা‌চ্ছেন। এ‌দের ম‌ধ্যে কিছু সংখ্যক বি‌দে‌শে পা‌ড়ি জমা‌চ্ছেন, কিছু সংখ্যক অনানুষ্ঠা‌নিক কা‌জে নি‌য়ো‌জিত কর‌ছেন, কিছু সংখ্যক মানুষ উ‌দ্যোক্তা হি‌সে‌বে ‌নি‌জে‌কে আত্মপ্রকাশ কর‌ছেন বাকীরা বল‌তে গে‌লে সারাজীবন বেকারই থে‌কে যান।এই অবস্থা থে‌কে বের হ‌য়ে আসাটা যে খুবই জরুরী এ কথা বলার অ‌পেক্ষা রা‌খে না। আমা‌দের হা‌তে হয়‌তো আলা‌দি‌নে চেড়াগ নেই কিন্ত আমা‌দের র‌য়ে‌ছে মোট জনসংখ্যার ৭০শতাংশ তারু‌ণ্যে ভরপুর (১৮ হ‌তে ২৫ বছ‌র)যুব সমাজ। ‌দে‌শের মানু‌ষের বর্তমা‌নে গড় আয়ু ৭২,৬০ বছর। এ সম্পদ বি‌শ্বের হা‌তে গোনা অল্প কিছু দে‌শের র‌য়ে‌ছে। এ সম্পদ‌কে কা‌জে লাগি‌য়ে অর্থনৈ‌তিক পরাশ‌ক্তি‌তে প‌রিনত হওয়া ‌কোন অলীক কল্পনা নয়।শুধুমাত্র ভৌগলিক অবস্থা‌নের কারণেই বাংলা‌দেশ বর্তমা‌নে বিশ্ব দরবা‌রে বি‌শেষ সমীহ আদায়ে সমর্থ হ‌চ্ছে। বি‌শ্বের বৃহৎ ১০০মাইল লম্বা কক্সবাজার সী‌ বিজ কে কেন্দ্র ক‌রেই পর্যতন শি‌ল্পে মি‌লিয়ন কো‌টি ডলার আয় করা কি অসম্ভব কিছু?উ‌দ্যোক্তা হি‌সে‌বে নি‌জে‌কে আত্মপ্রকাশ করার সূর্বণ‌ সময় এখন। ৪র্থ শিল্প বিল্পব কড়া নাড়‌ছে। শি‌ক্ষিত তরুণ তরুণী‌দের চাকুরীর পিছ‌নে ঘু‌রে ঘু‌রে সময় নষ্ট না ক‌রে নি‌জের পছন্দমত কা‌জে নে‌মে পড়ার এখনই সময়। একজন উ‌দ্যোক্তা নিজেই ই‌তিহা‌সের অংশ হ‌তে পা‌রেন। উ‌দ্যোক্তা স্বপ্ন দে‌খেন আর সেই স্বপ্ন‌কে বাস্ত‌বে রুপ দি‌তে নি‌জে‌কে উৎসর্গ ক‌রেন ব‌লেই পৃ‌থিবী তার গ‌তি‌তে এ‌গি‌য়ে চ‌লে‌ছে।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , ,  No Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *