রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ টন বর্জ্য উৎপাদন করে। ধারণা করা যায় আগামি ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এটি ৭৫০ টন ছাড়িয়ে যাবে।
অপরিকল্পিত নগরায়নের বাস্তবতায় রাজশাহী জেলার ১৪টি পৌরসভার মধ্যে ১৩টিতেই এখন পর্যন্ত কোনো আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ডাম্পিং স্টেশন) গড়ে ওঠেনি। ফলে এসব এলাকার প্রতিদিনের বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ৫টা নদী—স্বরমঙ্গলা, বরাহী, নবগঙ্গা, বড়নই, হোজা-তে গিয়ে পড়ছে। এই সব নদীগুলো এখন কালো, দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
রাজশাহী শহরের, নওহাটা, বাগমারা ও তাহেরপুর পৌরসভায় বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য আর মেডিকেল বর্জ্য সবই বড়নই নদীতে গিয়ে পড়ছে। দুর্গাপুর পৌরসভার বর্জ্য যায় হোজা নদীতে। গোদাগাড়ী পৌরসভার বর্জ্যের শেষ ঠিকানা পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থান। কাটাখালী পৌরসভার বর্জ্য ফেলার কথা রাজশাহী সিটি হাটের ভাগাড়ে। যদিও বেশির ভাগ ময়লা বাজার এলাকার ড্রেনে ফেলা হয়। ফলে বর্ষার সময় ড্রেন ভরে গিয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাঘা পৌরসভায় বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত জায়গা থাকলেও সেখানেও নিয়ম মানা হয় না। পৌর এলাকার শাহী মসজিদের পুকুরে নিয়মিত আবর্জনা ফেলা হয়। পুকুরে নিয়মিতভাবে বর্জ্য ফেলায় পানি প্রচণ্ড দুর্গন্ধ এবং দূষিত হচ্ছে যার কারণে পুকুরে গোসল করলে চর্মরোগ হয়। পুকুরের পাশাপাশি প্রায়ই উন্মুক্ত জায়গা ও ড্রেনেও আবর্জনা ফেলা হয়। তাতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জমে থাকা পানিতে মশা-মাছি জন্মায়। সেগুলোর মাধ্যমে রোগ ছড়ায়।
যতদুর জানা যায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য রাজশাহীর কাটাখালী, তাহেরপুর, বাঘা ও গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ৬ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে ডাম্পিং স্টেশন, বর্জ্য পরিবহনের যানবাহন, ডাস্টবিন ও সংগ্রহভ্যান কেনার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত জমি না পাওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থানীয়ভাবে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় প্রকল্পগুলো দীর্ঘসময়েও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কেনা যানবাহন_সরঞ্জাম ব্যবহার না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি পৌরসভা প্রতিবছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রায় দুই কোট টাকা ব্যয় দেখালেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
‘অপরিকল্পিত ও অসচেতনভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া বর্জ্য থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণে হাঁপানি, ফুসফুস ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।’
পচনশীল বর্জ্য থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, যা নানা রোগের কারণ হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি। পাশাপাশি, নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এবং বর্জ্য আলাদা করে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
প্রতিদিন আমরা যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি করছি, তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে রাজশাহীর নদী, কৃষি, মাটি সব বিষাক্ত হয়ে যাবে। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে এর মাশুল স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রে দিতে হবে।’
‘মানবসৃষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য এখনো নির্দিষ্ট জায়গা পাওয়া যায় নি। খোঁজা হচ্ছে। পেলেই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
– ফলে পানি-বাহিত রোগ, চর্মরোগ বাড়ছে, আর কৃষিজমির খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকিতে রয়েছে।মেডিকেল বর্জ্য ভয়াবহ ঝুঁকিতেঃ–২০২৪ সালে মাসিক বর্জ্য প্রায় ৫৮,০০০কেজি ছাড়িয়েছে- যার মধ্যে ৮৩.২%ই সংক্রামক বর্জ্য–কিন্তু হাসপাতালে মাত্র ৩% বিন সঠিকভাবে রঙিন কোড করা,— মাত্র ৩% প্যাথলজি স্যাম্পল বেসিনে–৮% ড্রেনে ফেলা হয়—–৭২% কর্মী নানা সংক্রামক অসুখে ।
প্রোপার প্রশিক্ষণসহ সবকিছুতেই বড় ঘাটতি’র কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ, ডায়রিয়ার মতো সংক্রামক ব্যাধি। পুরো জেলায় জনসংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। গড়ে উঠছে নতুন বসতি, হাটবাজার। এমন অবস্থায় বর্জ্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকা জনস্বাস্থের জন্য চরম হুমকি।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি পৌরসভার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো বর্জ্য অপসারণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার মধ্যে কেবল চারঘাট পৌরসভায় কিছুটা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সেটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
নদী, পুকুর ও ড্রেনে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং এসব জায়গা থেকে রোগ ছড়াচ্ছে। পরিবেশগত সমস্যাগুলো আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
RCC এখন কি করছেপ্রজেক্ট: “Modernization of waste management in Rajshahi City” বাস্তবায়ণে বায়া-দুয়ারি এলাকায় প্রায় ১০৫ একর জমি বাছাই হয়েছে।
• পরিকল্পনাঃ– হাইজেনিক ল্যান্ডফিল, বর্জ্য শোধনাগার, রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট,– স্লটারহাউস, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন, ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট
• লক্ষ্যঃ-গন্ধ ও জীবানুমুক্ত-পরিচ্ছন্ন শহরের বাস্তব চিত্র অচিরেই রাজশাহীবাসী দেখতে পাবেন বলে আশা করি।
সম্প্রতি এপ্রিল ২০২৬-এ RCC ডাচ কোম্পানি Sweep Smart-এর সাথে ডিজিটাল মনিটরিং আর ইকো-ফ্রেন্ডলি বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করেছে।
ওয়েস্ট-টু-এনার্জি সম্ভাবনাঃগবেষণায় দেখা গেছে, রাজশাহীর ৭৫.৮% জৈব বর্জ্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার দিয়ে বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব। ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট বছরে ১৮৭ GWh বিদ্যুৎ দিতে পারে।
Categories : Uncategorized
Posted by Mr Arif