Home » MR BlogPage 2

MR Blog

র্বৈ‌শ্বিক প‌রিবর্তণের যে ঢেউ বিশ্বব্যাপী শুরু হ‌য়ে‌ছে সেই প‌রিবর্তনের তাপ লা‌গে‌নি পৃ‌থিবী‌তে এমন দেশ এমন সমাজ খুঁজে পাওয়া স‌ত্যিই দুঃস্কর। দে‌শের ধনী থে‌কে সাধারণ, উচ্চ থে‌কে নিন্ম পর্যায় পর্যন্ত প‌রিবর্তণের ছোঁয়া লে‌গে‌ছে সর্বত্র। দীর্ঘ দুবছর অদৃশ্য করোনা মহামারী বিরু‌দ্ধে যুদ্ধে দেশ হা‌রি‌য়েছে অনেক জ্ঞানী, গুনী, প‌থিতযশা মানুষ‌কে, তেমননি প‌রিবার হা‌রি‌য়ে‌ছে তা‌দের আপনজন‌কে। শোকাগ্রস্থ, ক্লান্ত, বিষন্ন, প‌রিশ্রান্ত মানুষ আবার শুরু কর‌তে চাইলো। এগিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় দীর্ঘদি‌নের শোক,ক্ষ‌তি—কে শ‌ক্তি‌তে প‌রিনত ক‌রে নতুন ক‌রে জীবন সংগ্রা‌মে নাম‌তে না নাম‌তে আকস্মিৎ শুরু হ‌লো মানবসৃষ্ট সমস্যা ক্ষমতাবান‌দের আধিপত্য বিস্তা‌রের নতুন খেলা। বিশ্ব যখন ৪র্থ শিল্প বিল্পব‌কে স্বাগত জানা‌তে প্রস্তু‌তি নি‌চ্ছে এমনি সময় ইউ‌ক্রন—রা‌শিয়া যুদ্ধ গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে এ‌কবা‌রে ওলোট পালট ক‌রে দিল। দীর্ঘ ৬মাস ব্যাপি যে যুদ্ধ চল‌ছে শেষ ক‌বে কেউ বল‌তে পার‌ছে না অথচ বিগত ৬মা‌সে পৃ‌থিবীর অনেক দে‌শের অর্থনৈ‌তিক ব্যবস্থা এ‌কবা‌রে ভে‌ঙ্গে প‌ড়ে‌ছে। মহামারী কোভিডের কারণে পৃথিবী যতটুকু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার চেয়ে বহুগুন বেশী হয়েছে ইউ‌ক্রন—রা‌শিয়া যুদ্ধ। আমদানী নির্ভর প্রিয় বাংলা‌দে‌শের অর্থনৈ‌তিক অবস্থাও খুব নাজুক হয়ে পড়েছে। কিছু‌ দিন আগেও ৪৮ বি‌লিয়ন ডলার রিজার্ভ নি‌য়ে গর্ব করলেও এখন নেমে এসেছে মাত্র ৩৯বি‌লিয়ন ডলারে। গ‌র্বিত জা‌তি হি‌সে‌বে ভঙ্গুর অর্থনৈ‌তিক দেশ শ্রীলংকা—কে ঋণ প্রদান করলাম, বিদ্যুত স্বয়ংসম্পন্ন দাবী ক‌রে দেশব্যাপি উৎসব করলাম, ১৫/১৬ হাজার মেগাওয়াট বিত্য চা‌হিদা বিপরী‌তে ২৫হাজার মেগাওয়ার বিদ্যুত উৎপাদ‌নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে লক্ষ—কো‌টি টাকার ব্যয় করছি দীর্ঘ অনেক বছর ধ‌রে টা‌র্গেটঃচা‌হিদার অতিরিক্ত বিদ্যুত বি‌দে‌শে রফতানী, নি‌জের অর্থায়‌নে (প্রায়৩৩,০০০কো‌টি টাকা ব্যয়) তৈরী পদ্মা সেতু আমা‌দের অহংকার। সারাদে‌শে ১০০টা অর্থনৈ‌তিকজোন তৈরীর উদ্যোগ দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈ‌তিক স্থি‌তিশীলতাকেই ম‌নে ক‌রি‌য়ে দেয়। কৃ‌ষি‌ বিল্পবের মাধ্যমে বি‌শ্বের অন্যতম ঘনবস‌তি দে‌শের ১৭কো‌টি মানু‌ষের খাদ্য নিরাপত্তা সারা বিশ্বকে তাক লা‌গি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে। ভারত‌সহ দ‌ক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ‌কে পিছ‌নে ফে‌লে মাথাপিচু আ‌য়ে শীর্ষস্থান আমা‌দের সফলতার আরেক নাম। দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাবার প‌থে মরন কামড় যেন বসি‌য়ে দি‌য়ে‌ছে ইউ‌ক্রন—রা‌শিয়া যুদ্ধ। সারাবি‌শ্বের অর্থনৈ‌তিক ব্যাবস্থাতে লে‌গে‌ছে প্রচন্ড ঝাঁকু‌নি। আমদানী নির্ভর বাংলা‌দেশও সেই ঝাঁকু‌নি থে‌কে রেহাই পায়নি। প্রস্তু‌তি নেবার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া‌য় অর্থনৈ‌তিক ব্যবস্থাতে শুরু হ‌য়ে‌ছে নানা বিশৃঙ্খলা। রাতারা‌তি ডলারের দাম বৃ‌দ্ধিতে দেশীয় টাকার মান ক‌মে গে‌ছে, মুদ্রাস্ফী‌তি বেড়েছে জ্যামিতিকহারে, নাগ‌রিক জীব‌নে ব্যয় বাড়‌চ্ছে প্রতি‌দিন। সরকার ডলার সেইভ করতে আমদানী প্রক্রিয়া‌তে নানামূখী বাধ্যবাধকতা দেয়ায় বাজা‌রে”র”ম্যাটেরিয়াল সংক‌ট তীব্র হয়েছে। যার প্রভাবে দেশের উৎপাদন শি‌ল্পেও আঘাত হে‌নে‌ছে। উৎপাদ‌ন ব্যয় অনেক বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে‌ছে। দেশীয় উৎপাদন শিল্প‌কে আরো জ‌টিল ক‌রে তু‌লে‌ছে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোড শেডিং। উদ্যোক্তাসহ দে‌শের সকল শ্রেণীর সকল ব‌র্ণের মানু‌ষের জীবন আরো অসহনীয় ক‌রে তু‌লে‌ছে অস্বাভা‌বিক তে‌লের মূল্য বৃ‌দ্ধি। বিদ্যুত ও জ্বালানীর মত গুরুত্বপূর্ণ সেক্ট‌রের অস্বাভা‌বিকতায় মানু‌ষের জীব‌নে ছন্দ‌ পতন ঘটে‌ছে। বৈশ্বিক উঞ্চতা বৃদ্ধিও অদুর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য একটা বড় চ্যলেঞ্জ হয়ে দাড়াবে।করনীয়ঃজীব‌নে ছন্দ পতন ঘটবে, বাধা বিপ‌ত্তি আসবে কিন্তু হাল ছাড়া যা‌বে না বন্ধু। অজানা স্বপ্নের নৌকায়পাল তোলা হয়েছে তী‌রে তো পৌঁছ‌তেই হ‌বে। চাকুরী ছে‌ড়ে ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হি‌সে‌বে প্রতি‌ষ্ঠিত কর‌তে সমা‌জে সীমা‌হীন বাধা আর অব‌হেলা সইতে হয় সত্য তবু আত্নবিশ্বাস হারানো যাবে না। ক্র্যাইসিস সময়ে আত্নবিশ্বাস টিকে থাকার মুলমন্ত্র। বর্তমান সম‌য়ে আত্ন‌বিশ্বা‌সের সা‌থে চল‌তে প্রয়োজন অনেক ধর‌ণের দক্ষতার। নানা ধর‌ণের প্রশিক্ষণ আর অভিজ্ঞতা ম্যাধ্যমে আমা‌দের দক্ষ হ‌য়ে উঠ‌তে হ‌বে। ১৮০০শতাব্দীতে শিল্প বিল্পব শুরু পর থেকে কায়িকশ্রম কমে আসছে। কায়িকশ্রমের বদলে যন্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে মানুষের। প্রতিটি সেক্টরে আধুনিক ব্যবস্থার সাথে নিজেকে খাপ খাইতে নিয়ে চলতে হবে নইলে মাঝপথেই থেমে যেতে হবে সুতরাং দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই মনে রাখতে হবে ”শিক্ষা য‌দি হয় জীবন ত‌বে প্রশিক্ষণ হ‌লো জী‌বিকা”। বি‌সিকসহ বেশ কিছু সরকারী সংস্থা স্বল্প খর‌চে নানা ধরণের প্রশিক্ষ‌ণের ব্যবস্থা ক‌রছে যদিও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সারা বছরই এধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ মানুষকে দিনদিন দক্ষ হতে সাহাষ্য করে। দুঃখ হয় একজন উদ্যোক্তাকে এই সমা‌জে কেউ ফুল দি‌য়ে বরণ ক‌রে না। সেটা প‌রিবারই ব‌লি বা সমাজ। এদে‌শের বাবা—মা এখ‌নো স্বপ্ন দে‌খেন তা‌দের ছে‌লে—মে‌য়ে লেখাপড়া শে‌ষে সরকারী চাকুরী করবে বা বড় কোন কোম্পানী—তে। বেতন যেটাই হোক চাকুরীর সাথেই পরিবারের মান—মর্যাদা জড়িত বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু ভে‌বে দে‌খেন না বড় কোম্পানী যারা বা‌নি‌য়ে‌ছেন তারাও এক একজন উদ্যোক্তা। এখ‌নো বড় চেয়া‌রে ব‌সে থাকা আমলাগন উদীয়মান উদ্যোক্তা—কে সহানুভু‌তির চো‌খে না দে‌খে ভাবেন সমা‌জের অকর্ম মানুষই হিসেবেই মনে করেন। তা‌দের চিন্তাতেই আসেনা এই অমীত সম্ভাবনাময় তরুণই হয়‌তো এক‌দিন দে‌শের ইতিহাস বদ‌লে দি‌তে পা‌রে। নিঃসং‌কোচ চি‌ত্তে বল‌তে পা‌রি শত প্রতিকুলতার মা‌ঝে এগিয়ে চলা একজন উদ্যোক্তা অন্য যেকোন পেশাজীবির চে‌য়ে মান‌সিকভা‌বে অনেক শ‌ক্তিশালী। শত সম্ভাবনার আমা‌দের এই মাতৃভূ‌মি‌তে উদীয়মান উদ্যোক্তা সর্ম্পকে মি‌ডিয়া‌তে যতই ভাল কথা বলা হোক না কেন বাস্তবতা যে ভিন্ন এখা‌নে উপ‌স্থিত সক‌লে এক বা‌ক্যে স্বীকার কর‌বেন। তাহ‌লে আমরা কি থে‌মে যাব? না আমরা তো থেমে যাবার জন্য শুরু করিনি বরং ম‌নের গহী‌নের লা‌লিত স্বপ্নের বাস্তবরুপ দি‌তে আরো আপডেট হবো। কারণ প্রকৃ‌তি সব সময় সাহসী মানুষের পা‌শে থে‌কে সাহা‌ষ্যের হাত বা‌ড়ি‌য়ে দেয়। দে‌শে এখ‌নো প্রায় ৫কো‌টি মানুষ বেকার। ছোট একটা সফল উদ্যোগ প‌রোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ৪০/৫০জ‌ন মানু‌ষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। দে‌শের কৃ‌ষি শি‌ল্পের বিস্ময়কর অগ্রগ‌তির পিছ‌নে র‌য়ে‌ছে এমন সফল ছোট ছোট উদ্যোগ। অনেক ছোট সফল উদ্যোগের পরবর্তী বাস্তবরুপই আজ‌কের রপ্তানীমু‌খি চামড়া, পাট, মাছ, প্লোট্রি, হস্তশিল্পসহ আরো অনেককিছু। ৫০বি‌লিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানীর মাইল ফলক পার ক‌রে‌ছি গতবছর। এ বছর ৫৮বি‌লিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রা থাক‌লেও আশা করা যায় ৭০বি‌লিয়ন ডলারে যে‌তে পার‌বো। এই জুলাই/২২ মাসেও ৪বিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানী এবং পরিশ্রমী রেমিটেন্স যোদ্ধারা ২বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। সাহসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রতি রইল সালাম। আমদানী উপর চাপ কমিয়ে রপ্তানী বৃদ্ধির জন্য দক্ষ মানবশক্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে খুব বেশী বেগ পেতে হবেনা কারণ আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪১% তরুণ বা যুবক যা মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬০%।১৯১১—১২ সালে মাওসেতুং উপলদ্ধি করেছিলেন চীনকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে বহুল জনগোষ্টিকে সম্পদে পরিনত করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে চীন সরকা‌রের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠ‌পোষকতায় ঘ‌রে ঘরে কু‌টিরশি‌ল্প গ‌ড়ে উঠেছিল। জনশ‌ক্তি‌কে জনসম্প‌দে প‌রিনত করার ধারাবা‌হিক প্রচেষ্টার ফলস্বরুপই আজ‌কের অর্থনৈ‌তিক পরাশ‌ক্তি চীন।পৃ‌থিবী‌তে এমন অনেক দেশের উদাহরণ দেখ‌তে পাই যারা জনশ‌ক্তি‌কে সম্প‌দে প‌রিনত ক‌রে‌ বিশ্বে অর্থনৈ‌তিক পরাশক্তি হিসেবে নাম লিখিয়েছে। একজনসাকসেসফুল উদ্যোক্তা টাইম ম্যানেজমেন্ট বা যেকোন পরিস্থিতির সাথে যেমন মানিয়ে নিতে পারেন তেমনি ক্রিয়েটিভিটি বা নিত্যনতুন আইডিয়া সৃষ্টির ক্ষমতাও তার অসাধারণ আর যোগাযোগ দক্ষতা তো থাকাতেই হবে। প্রবাদপুরুষ ওয়ারেন বাফেটকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ১ম জনের আইকিউ অনেক বেশী আর ২য়জনের ধৈষ্যশীলতা ও ডিসিপ্লিন্ডনতা কাকে বেছে নেবেন তিনি ২য়জনকে বেছে নিতে চেয়েছেন। কারণ তীক্ষ্র মেধার চেয়ে লেগে থাকার গুন বেশী দরকার। গবেষণায় দেখা যায় শুধু লেগে থাকার প্রবনতা না থাকার দরুন ২০% উদ্যোক্তা ১ম বার ব্যর্থ হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।এজন্য সরকারী সহায়তায় নিয়মিত উৎপাদনমুখী প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে নানা লজিষ্টিক সহায়তাসহ নিবিড় মনিটরিংএর মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা আত্নবিশ্বাসের সাথে উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে নিয়োজিত হতে পারবেন। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। পুজিঁবাদী ব্যাংকিং সিষ্টেমে একজন র্ষ্টাটআপ উদ্যোক্তার জন্য ব্যাংক ঋণ যেন রীতিমত দুঃস্বপ্নের মত। ঋণপ্রাপ্তির জন্য এমন সব যোগ্যতা চাওয়া হয় তা পুরণ সময় সাপেক্ষ। একজন উদ্যোক্তা কর্ম—এর মাধ্যমে ইতিহা‌সের অংশ হ‌তে পা‌রেন যেটা একজন চাকুরীজীবির প‌ক্ষে কখ‌নো সম্ভব না। আত্নবিশ্বা‌সে ভরপুর উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাদের সকলের সাথে বলতে চাই আমরা তো শত প্রতিকুলতা মোকা‌বেলা ক‌রেই টি‌কে আছি ভবিষ্যতেও পা‌রবো আশা ক‌রি। মহান আল্লাহ্ রহম‌তে অচিরেই বিশ্ব তার স্বাভা‌বিক গ‌তি‌তে ফি‌রে আস‌বে আশা করি। আমরা আরো বড় উদ্যোগ গ্রহ‌ণের মাধ্যমে এদেশকে উন্নয়‌নে শী‌র্ষে নি‌য়ে যাব এটাই প্রতাশ্যা।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud  No Comments
জুলাই/২২ মাসে প্রবাসী আয় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। দেশের অর্থনীতিতে নিঃসন্দেহে স্বস্তির সুবাতাস।প্রবাসের পা ফাটা শ্রমিকের ঘামের বিনিময়েই দেশের রিজার্ভ সমৃদ্ধ হয়। আমদানী নির্ভর দেশে রিজার্ভ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ গত কয়েক মাসে দেশের মানুষ সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন । বিত্তবান থেকে সাধারণ পযন্ত সর্বত্র আলোচনা শুধু একটাই রিজার্ভ তলানীতে চলে যাচ্ছে। আমাদেরও শ্রীলংকার মত অবস্থা না হয়। কিছুদিন আগেও আমরা রিজার্ভ নিয়ে গর্ব করতাম কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৯.৪৯ বিলিয়ন ডলার নেমে আসায় দেশের অর্থনীতিতে যে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। চারিদিকে ডলার সংকট শুরু হয়েছে। ডলা‌র সং‌কটের কার‌ণে পণ্য আমদানী‌তে নানা রকম কাটছাট করা হ‌চ্ছে। চি‌কিৎসার কার‌ণে সাধারণ মানুষ বি‌দেশ যাত্রাতেও বাধা হ‌য়ে দাড়াচ্ছে ডলারে সংকট। মুদ্রাস্ফী‌তি দিন দিন বে‌ড়েই চ‌লে‌ছে। এমন অবস্থায় জুলাই মাসে ২.২ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় যেন নতুন করে ঘুরে দাড়াবার প্রত্যয়। গত অর্থবছ‌রে রে‌মিট্যান্স এ‌সে‌ছে ২১,৩০ বি‌লিয়ন ডলার। এ অর্থবছরে অন্তত ৩০ বি‌লিয়ন ডলার রে‌মিট্যান্স আস‌লে অ‌নেক বড় বড় সমস্যাও আমরা কা‌টি‌য়ে উঠ‌তে পার‌বো আশা করা যায়। আশা ক‌রি ভ‌বিষ্যতে এই সকল রে‌মিট্যান্স যোদ্ধা‌দের প্রতি দেশ ও জা‌তি যথাযথ সম্মান দেখা‌বে। এয়ার‌পো‌র্টে এদের হ‌তে হ‌বে না লা‌ঞ্চিত বরং সম্মা‌নের সা‌থে গ্রীন চ্যানেল দি‌য়েই পার হ‌তে পার‌বেন। প‌রি‌শে‌ষে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি রইল সালাম।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   ,  No Comments
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মধ্যেই দেশ ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী আয় অতিক্রম করলো। চলতি অর্থবছরে রপ্তানী লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩,৫০ বিলিয়ন ডলার। গত মে/২২ মাসেই রপ্তানী আয় ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসের পর্যন্ত আরো (২৭/৬/২২) ৩,২০ বিলিঃ ডলার আয় করে রপ্তানী আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম, নিঃসন্দেহে দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবেই ধরা যায়। যদিও তৈরী পোশাক ও হোম টেক্সটাইল খাত থেকেই রপ্তানী আয় প্রায় ৮৩%। সংশ্লিষ্ট মহল আন্তরিক হলে ভবিষ্যতেঃ১)কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য,২)পাট ও পাট জাতীয় পণ্য,৩)চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্যএই তিনটি সেক্টরের যথাযথ উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানী আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইল ফলক ছোঁয়াও অসম্ভব বলে মনে করি না।আমাদের উত্তর অঞ্চল বিশেষ করে রাজশাহী জেলাতে ভারী শিল্প নেই বলে অনেকেই হাই—হুতাস করেন। বিনয়ের সাথে জানতে চাই ভারী শিল্পের কি প্রয়োজন? সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমা আর পা ফাটা কৃষকের পরিশ্রমে বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে উপচে পড়া ফসল, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদনে ভরপুর মাছ, মুরগী, ডিম, আম, পান, টমেটো, আলুসহ নানা ধরণের খাদ্যদ্রব্যগুলিকে রপ্তানী প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পারলে অদুর ভবিষ্যতে রপ্তানী আয় ১০০ বিলিয়ন ডলার আমাদের বাস্তবতার মধ্যেই চলে আসবে।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   ,  No Comments
জনসংখ্যার আধিক্য, ক্রমাগত জমির পরিমাণ কমে যাওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বৈরী প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নজির সৃষ্টি করে চলেছেন এদেশের পরিশ্রমী কৃষকরা। এরই ধারাবাহিতকায় কৃষি সেক্টরে বিগত ১০ বছরে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রধানতম খাদ্য ধান,গম, ভূট্টাসহ অন্যান্য মৌসুমীফলও উদ্বৃত্ত উৎপাদন হচ্ছে। দেশে পেয়ারা, সবজি, আম এবং আলুসহ আরো নানারকম মৌসুমী ফলের উৎপাদন বেড়েছে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশী। তেমনি মানুষের আমিষের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশী মাছ, মুরগী এবং ছাগল উৎপাদন বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশী হওয়ায় পরিশ্রমী প্রান্তিক কৃষকেরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। ক্রমাগত লোকসানে তাদের ব্যক্তি/পারিবারিক জীবনে নেমে আসছে নিদারুণ হতাশা। এই হতাশাকে আরো ভয়াবহ করে তোলে দেশের জটিল ব্যাংক ব্যবস্থা। ফলে কৃষকের পুঁজি একবার হারিয়ে গেলে সেটা রিকভার করার কোন ব্যবস্থা থাকে না। করোনার প্রথম ধাক্কায় দেড় মাসে পোশাক শিল্পে ৩৮ হাজার কোটি টাকার অর্ডার হারানো কথা জেনেছি আমরা কিন্তু একই সময়ে কৃষিখাতের ক্ষতি হয়েছে (ব্র্যাকের গবেষণামতে) ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ক্ষতির বিপরীতে কৃষিজীবীরা কি পেয়েছেন? সুতরাং কৃষিখাত নিয়ে নতুন করে ভাবনার নতুন করে পরিকল্পনার সময় এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই আমাদের উৎপাদিত পেয়ারা, সব্জি, আলু, পান এবং আমসহ অন্যান্য কৃষিজাত দ্রব্যের ভাল বাজার রয়েছে। তেমনি মাছ, মাংসসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রফতানীর করেও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। আর্ন্তজাতিক বাজারে এখনো সুবিধা করতে না পারার দরুণ কৃষিতে জিডিপি’র অবদান নিতান্তই সামান্য। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো স্বল্প পরিমান আবাদি জমি ব্যবহার করে আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির দ্বারা কৃষি সেক্টরে জিডিপি—তে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশ ৬০%, ভারত ৫৩%, পাকিস্থান ৪০%, থাইল্যান্ড ৩৩% এবং চীন মাত্র ১৩% আবাদি কৃষি জমি ব্যবহার করেও দীঘদিন থেকে ধান উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রেখে জিডিপি—তে অবদান রাখচ্ছে সর্বোচ্চ। অথচ আমরা ৬০% আবাদি কৃষি জমি ব্যবহার করে জিডিপি—তে উল্লেখযোগ্য কোন অবদানই রাখতে পারছি না। ২০১৮—১৯ অর্থবছরে কৃষি/অকৃষি সব দ্রব্য মিলিয়ে রপ্তানী করে ৪০.৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছি। শুধু মাত্র পোশাক খাত থেকে এসেছে ৩৪ মিলিয়ন ডলার অথ্যাৎ জিডিপি’র ৮৪%। কৃষিপণ্যের মধ্যে চিংড়ি, জীবন্ত ও হিমায়িত মাছ, কাঁকড়া, সবজি, তামাক, চা, মসলা, ফুল/ফলসহ অন্যান্য রপ্তানী করে ১.৪০ মিলিয়ন ডলার—৩.৫%। এছাড়া পাট ও পাটজাত দ্রব্যের মাধ্যমে ০.৮২%। চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য হতে ১.০২%। কৃষিজাত দ্রব্য রপ্তানী আয় খুবই কম। বিশ্বের ১০টি দেশ কৃষি ও কৃষিজাত দ্রব্য হতে জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ৪টি দেশ চীন (৭৩%), ইন্দোনেশিয়া(৩৯%), থাইল্যান্ড(৩৬%) এবং ভারত(৩৫%)। উত্তম কৃষি পদ্ধতি, আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে উঁকি দিচ্ছে সেটাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজে লাগানো গেলে দেশের পরিশ্রমী কৃষিজীবিরা সম্মানের সাথে বাঁচেতে পারবেন সাথে জিডিপিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , ,  No Comments
একটা প্রবাদ ছিল বিশ্বে দুভিক্ষ কবে হবে উত্তরে বলা হতো চীনারা যেদিন কাঠি ছেড়ে হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করবে। সেই বাস্তবতাকে উপলদ্ধি করে সময়ের সাথে চীন ধান উৎপাদনে ব্যাপক সফল হয়েছে। বহু বছর ধরে ধান উৎপাদনে শীষস্থান ধরে রেখেছে চীন। উৎপাদন প্রায় ১৫ কোটি মেট্রিক টন। পর্যায়ক্রমে ভারত ইন্দোনেশিয়ার পরই ৪ নম্বরে অবস্থান ছিল বাংলা‌দে‌শের। বর্তমান সম‌য়ে ই‌ন্দো‌নে‌শিয়া‌কেও পিছ‌নে ফে‌লে ধান উৎপাদ‌নে ৩য় অবস্থা‌নে চ‌লে এ‌সে‌ছে। হেক্টর প্রতি ২.৫০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ব-দরবারে রোল মডেলে পরিনত হয়েছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি সেক্টরেও ঈর্ষণীয় সাফল্য অব্যহত রেখেছি আমরা। জনসংখ্যার আধিক্য, জমির পরিমাণ কমে যাওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বৈরী প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে নজির সৃষ্টি করে চলেছেন এ দেশের কৃষকরা। নিবিড় চাষের মাধ্যমে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তেমনি আলু ও আম উৎপাদনে সপ্তম এবং প্রতি বছরই উদ্বৃত্ত থাকে বিপুল পরিমাণ আলু। ‌সোনালী পাট আবারও ফি‌রে আস‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। এখন পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যাপকভাবে রপ্তানী হ‌য়ে বি‌শ্বের অ‌নেক দে‌শে। তথ্যমতে ২০২১-২২ অর্থ বছ‌রে পাটজাত দ্রব্য রপ্তানী ক‌রে দে‌শ প্রায় ৯০ কো‌টি ডলা‌র আয় ক‌রে‌ছে। উৎপাদ‌নের পেয়ারায় অষ্টম অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গম এবং ভূট্টা উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুন। একটা পরিসংখ্যানে প্রায় ৫০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে দেশে। য‌দিও গম ও ভূট্টা দেশীয় চা‌হিদার তুলনায় উৎপাদন অ‌নেক কম। আমদানীর উপর এখ‌নো নির্ভরশীল থাক‌তে হয়। দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছে অনেক আগে থেকে। শুধু পো‌ল্ট্রি সেক্টরেই প্রায় ৮৮ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে জড়িত। দেশীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশী উৎপাদনের কারণে প্রান্তিক চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সং‌শ্লিষ্ট মহ‌লের স‌হোয‌গিতায় মাছ এবং পো‌ল্ট্রি সেক্টরও হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অ‌নেক বড় খাত। চা উৎপাদনের আমরা বরাবরের মতই অভূতপূর্ণ সাফল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে ০৭ কোটি মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতেই দেশকে হিমশিম খেতে হয়েছে, আজ ১৮ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করেও বিভিন্ন দেশে খাদ্যসামগ্রী রপ্তানী করা হচ্ছে। সময়ের বিবর্তনে যেমন এসেছে নতুন ফসল তেমনি প্রসারিত হচ্ছে নতুন সব প্রযুক্তি।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , ,  No Comments
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়‌ছে এখন আন্তঃদেশীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আ‌রো প্রসা‌রিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক প‌রিমন্ড‌লে শুধু ভৌগ‌লিকগত অবস্থা‌নের কার‌ণেই য‌থেষ্ঠ গুরুত্ব পা‌চ্ছে বাংলা‌দেশ। এই গুরুত্বকে আ‌রো শক্ত অবস্থা‌নে নেয়ার জন্য ভারত, নেপাল ও ভুটা‌নের সা‌থে বহুমা‌ত্রিক যোগা‌যোগ ব্যবস্থা তৈরীর মাধ্যমে আ‌ঞ্চলিক বা‌নিজ্যকেন্দ্র হি‌সে‌বে প‌রিনত হবার সু‌যোগ এখন বাংলা‌দে‌শের সাম‌নে অ‌পেক্ষা কর‌ছে। সিরাজগঞ্জ,কু‌মিল্লা,রাজশাহী, নারায়নগঞ্জ, দাউদকা‌ন্দি ও চিলমা‌রি এ ছয়‌টি শহর নতুন অর্থ‌নৈ‌তিক কেন্দ্র হি‌সে‌বে গ‌ড়ে উঠ‌বে। প‌ণ্যের অবাধ চলাচ‌লের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী দেশগু‌লি‌তে রপ্তানী বাড়‌বে নি‌শ্চিতভা‌বেই বলা যায়। ফ‌লে বাংলা‌দে‌শের অর্থনৈ‌তি‌তে উচ্চহা‌রে প্রবৃ‌দ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত থাক‌বে ব‌লেও আশা করা যায়।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , , ,  No Comments
যে শিশু‌টি আজ জন্ম নে‌বে উত্তরা‌ধিকার সু‌ত্রেই তার মাথায় প্রায় ৮৫,০০০ টাকা ঋ‌ণের দায় চাপ‌বে। সরকার যে হা‌রে ঋণ নি‌চ্ছে তা‌তে আগা‌মি অর্থবছ‌রে দে‌শের প্রতি‌টি নাগ‌রি‌কের মাথা‌পিচু ঋ‌ণ দাড়া‌বে প্রায় ১০০,০০০ টাকা। এই অর্থবছ‌রের বা‌জে‌টেও ঋ‌ণের সুদ প‌রি‌শো‌ধের খাত ৩ নম্ব‌রে র‌য়ে‌ছে (ব্যয় ৬৮,০০০ কো‌টি টাকা)। অন্যদিকে বা‌জে‌টে মানু‌ষের মাথা‌পিচু বরাদ্দ প্রায় ৩৭,৩৩৩ টাকা। অর্থাৎ ঋণ মাথা‌পিচু বরা‌দ্দের প্রায় দ্বিগুনের বে‌শি। কর ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন না হওয়ায় সরকার কে বে‌শি বে‌শি ঋ‌ণের আশ্রয় নি‌তে হ‌চ্ছে। এ ক্ষে‌ত্রে বন্ধু বে‌শে ঋ‌ণের ঝু‌ড়ি নি‌য়ে অ‌নে‌কেই এ‌গি‌য়ে আস‌ছে। কিন্তু ঋণ ক‌রে ঘি খাবার অভ্যাসটা যেন মজ্জাগত না হয় সে‌দি‌কে সর্তক দৃ‌ষ্টি রাখা একান্ত প্রয়োজন। দার্শনিক এবং আ‌মে‌রিকার ২য় প্রেসি‌ডেন্ট জন এডামাস বল‌তেন “কোন ভূখন্ড বা দেশ‌কে পদাবনত কর‌তে ত‌লোয়া‌রের বিকল্প হি‌সে‌বে ঋণ-অস্ত্রও ব্যবহার করা যায়”। স‌ন্দেহ নেই আ‌মে‌রিক দীর্ঘদিন এই তত্ত্ব চর্চা ক‌রে আস‌ছে‌। ত‌বে এই যুদ্ধাস্ত্র সব‌চে‌য়ে ভা‌লভা‌বে কাজ লাগা‌তে পে‌রে‌ছে চীন। তাই তো চীনেকে এখন বলা হ‌চ্ছে “ঋণ সম্রাট”। এই ঋণ সম্রাট ঋণাস্ত্র প্রয়োগ ক‌রে এ‌শিয়া ও আ‌ফ্রিকায় অ‌চি‌রেই নতুন এক ঔপ‌নি‌বে‌শিক যু‌গের সূচনা ঘটা‌তে যাচ্ছে স‌ন্দেহ‌ নেই। চী‌নের “ঋণফাঁদ” কীভা‌বে ভূরাজ‌নৈ‌তিক স্বার্থ হাসিল কর‌তে পা‌রে তার সব‌চেয়ে বড় নজীর হ‌লো শ্রীলঙ্কা। দেশ‌টি চী‌নের কাছ থে‌কে ১ বি‌লিয়ন ডলার ঋণ নি‌য়ে দ‌ক্ষিণ হামবান‌তোতায় ১‌টি গভীর সুমদ্র বন্দর নির্মাণ ক‌রে ঋণ প‌রি‌শো‌ধে ব্যর্থ হ‌য়ে গত ডি‌সেম্ব‌রে বন্দর‌টি‌কে চায়না মা‌র্চেন্টস হো‌ল্ডিং‌সের কা‌ছে ৯৯ বছ‌রের জন্য লীজ দি‌তে বাধ্য হ‌য়ে‌ছে। অ‌স্ট্রেলিয়ার চারপা‌শের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগু‌লো‌তে চীন প্রায় ১,৮০ বি‌লিয়ন ডলার ঋণ দি‌য়ে সু‌যো‌গের অ‌পেক্ষায় র‌য়ে‌ছে। কা‌জেই সাবধান। এই সরল সত্য বাস্তবতাটা অনুধাবন না পার‌লে ভবিষ্যতে কি অ‌পেক্ষা কর‌ছে জানা নেই!
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , ,  No Comments
১লা বৈশাখ ১৪২৯ বাংলা নববর্ষ। দিন‌টি সকল বাঙ্গা‌লি জা‌তির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবর‌ণের দিন হি‌সে‌বে দীর্ঘদিন হ‌তেই বি‌বে‌চিত হ‌য়ে আস‌ছে। এ‌টি বাঙ্গালি‌দের এক‌টি সর্বজনীন লোক উৎসবও বলা চ‌লে। বর্তমান সম‌য়ে ১লা বৈশাখ কে কেন্দ্র ক‌রে বিপনী বিতানগু‌লো‌তেও উপ‌চে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। প্রসঙ্গত বলা চ‌লে স্বাধীনতা উত্তর সময় হ‌তেই ছোট আকারের হ‌লেও ১লা বৈশা‌খে “আনন্দ শোভাযাত্রা” বের হ‌তো। কিন্তু এই “আনন্দ শোভাযাত্রা” ই কিভা‌বে যেন ১৯৮৯ সাল হ‌তে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” তে রুপ নেয়। সে যাই হোক ধী‌রে ধী‌রে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” বাঙ্গা‌লির নববর্ষ উদযাপ‌নের একটা প্রধান আকর্ষণ হি‌সে‌বে বি‌বে‌চিত হ‌য়ে আস‌ছে। ত‌বে ২০১৬ সালে ইউ‌নে‌স্কো ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থে‌কে আ‌য়ো‌জিত মঙ্গল শোভাযাত্রা‌কে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃ‌তিক ঐ‌তিহ্য” ঘোষণা বাঙ্গা‌লি জাতীর বাংলা নববর্ষ উদযাপন‌কে বিশ্বব্যাপী প‌রি‌চিত ক‌রে তো‌লে। বাংলা‌দে‌শে নববর্ষ ১৪ এ‌প্রিল পালন করা হ‌লেও প‌শ্চিমব‌ঙ্গে ১৫ এ‌প্রিল পালন করা হয়। ভার‌তে তি‌থি প‌ঞ্জিকা আর বাংলা‌দে‌শে গ্রেগরীয় প‌ঞ্জিকা অনুসা‌রে বাংলা একা‌ডে‌মি কর্তৃক ১৪ এ‌প্রিল বাংলা বছ‌রের প্রথম দিন হি‌সে‌বে নি‌দিষ্ট করা হ‌য়েছে। বাংলা‌দেশ এবং প‌শ্চিমবঙ্গে নববর্ষের দিন‌টি সরকারী ছু‌টির দিন হি‌সে‌বে গৃহীত। সম্রাট আকব‌রের শাসনাম‌লে প‌হেলা বৈশা‌খের নানা আনুষ্ঠা‌নিকতা দি‌য়ে শুরু হ‌লেও পরব‌র্তিতে বাঙ্গা‌লির বি‌ভিন্ন রীতি নী‌তি আমা‌দের বর্ষ বর‌ণে স্থান ক‌রে নি‌য়ে‌ছে। বি‌ভিন্ন পর্যা‌য়ের ব্যবসায়ীরাও দিন‌টি‌কে নতুনভা‌বে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হি‌সে‌বে ধ‌রে নেন। ধর্ম বর্ণ গোত্র নি‌বি‌শে‌ষে ১লা বৈশাখ বাঙ্গা‌লি জাতীর নিজস্ব উৎসব হি‌সে‌বেই যু‌গে যু‌গে পা‌লিত হ‌য়ে আস‌ছে।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   , , ,  No Comments
দে‌শে প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ তরুণ/যুবা কর্মবাজা‌রে প্রবেশ করেন। সরকারী/বেসরকারীসহ নানা প্রতিষ্ঠা‌নে কা‌জে সংস্পৃক্ত হবার পরও প্রায় ১০/১২ লাখ তরুণ/যুবা নি‌জে‌দের জন্য কোন চাকুরী জোগাড় কর‌তে পা‌রেন না। এরা সক‌লেই কম বেশী কর্মক্ষমতা সম্পন্ন মেধাবী শি‌ক্ষিত গ্র্যাজুয়েট। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় হতাশা যেন এ‌দের নিসঙ্গী হ‌য়ে প‌ড়ে। নি‌জের যোগ্যতা প্রমা‌নের আ‌গেই অ‌যোগ্য হি‌সে‌বে প‌রিবা‌রে, সমা‌জে এমন‌কি রা‌ষ্ট্রের কা‌ছে প‌রি‌চিত হন। এর দায়ভার কিন্তু রাষ্ট্রকেই নি‌তে হ‌বে। ২৫/২৮ বছ‌রের শিক্ষিত কর্ম চঞ্চল তরুণ—যুবা কেন হতাশা, বেদনা, একরাশ কষ্ট নি‌য়ে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তা‌গি‌দে অন্ধকা‌রের প‌থে পা বাড়া‌চ্ছে? দে‌শ বর্তমা‌নে মোট জনসংখ্যা ৬৫% তরুণের পদচারনায় মুখ‌রিত। এ সু‌যোগ‌কে কা‌জে লাগা‌তে হ‌লে শুধু উ‌দ্যোক্তা সৃ‌ষ্টি ক‌রে দা‌য়িত্ব শেষ না ক‌রে তরুণ উ‌দ্যোক্তা‌দের সাম‌নে এ‌গি‌য়ে নি‌তে মৌ‌লিক প্রতিবন্ধকতাগু‌লো‌কে চি‌হ্নিত ক‌রে সেগু‌লো নিরাম‌য়ের ব্যবস্থা কর‌লেই প্রকৃত প‌ক্ষে প‌রিবার, সমাজ এমন‌কি রাষ্ট্র সাম‌নের দি‌কে এ‌গি‌য়ে যা‌বে। প্রতি‌টি ঘ‌রে ঘ‌রে একজন ক‌রে উ‌দ্যোক্তা তৈরী হ‌বেন। দে‌শ সমৃদ্ধ হ‌বে অর্থনী‌তি সমৃদ্ধ হ‌বে। রাষ্ট্রকেও আর বেকারত্বের বোঝা বহন কর‌তে হ‌বে না।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud   ,  3 Comments
৩০/০৬/১৯৭২ সা‌লে দে‌শের প্রথম বা‌জেট ৭৮৬‌কো‌টি টাকা এবং খাদ্য উৎপাদন ছিল বা‌র্ষিক ১‌কো‌টি ৮০লক্ষ টন। স্বাধীনতার ৫০তম বছ‌রে বা‌জেট ৬০৩,৬৮১কো‌টি টাকা এবং খাদ্য উৎপাদন প্রায় ৪‌কো‌টি ৫৬ লক্ষ টনের মাধ্যমে দে‌শের ১৮ কো‌টি বৃহৎ জন‌গো‌ষ্ঠির খাদ্য নিরাপত্তা অ‌নেকটাই সু‌নি‌শ্চিত করা হ‌য়ে‌ছে। ৪৫বি‌লিয়ন ডলার রির্জাভ মা‌নি নি‌য়ে এ‌গি‌য়ে চল‌ছে দেশ। রুপালী ই‌লিশ উৎপাদ‌নে দীর্ঘদিন থে‌কে শীর্ষস্থান দখ‌লে রে‌খে‌ছে বাংলা‌দেশ তেমনি চাল, পিয়াজ, সব‌জি, চা এবং ছাগল উৎপাদ‌নে বি‌শ্বে ৩য়। কার্ব জাতীয় মাছ, মুরগী, ডিম উৎপাদ‌নে শীর্ষ ২য় স্থান দখ‌লে রে‌খে‌ছে। মাথা পিচু আয় ১৯৭৩ সা‌লে মাত্র ৭০ ডলার হ‌লেও জানুঃ/২২ এ প্রায়২,৮০০ ডলার আয় নি‌য়ে সার্কভুক্ত দেশগু‌লোর ম‌ধ্যে শীর্ষেই অবস্থান কর‌ছে। কৃ‌ষিজ ও পাটজাত দ্রবব্য ব্যাপক প‌রিমান যেমন রপ্তানী‌ হ‌চ্ছে তেম‌নি চামড়াজাত দ্রব্যাদিও থে‌মে নেই রপ্তানী‌তে (ডি‌সেঃ/২১পর্যন্ত প্রায় ৫৭ কো‌টি ডলার)। জি‌ডি‌পি‌তে সামান্য হ‌লেও অবদান রে‌খে চ‌লে‌ছে। রা‌শিয়া ইউ‌ক্রেন যু‌দ্ধে বিশ্বব্যাপি খাদ্য সংকট দেখা দি‌লেও দে‌শে এখনও ২০ লক্ষ টনের খাদ্য মজুদ থাকায় শীঘ্রই খাদ্য ঘাট‌তির সম্ভবনা নেই বলা যায়। নিজস্ব অর্থায়‌নে প্রায় ৩১ হাজার কো‌টি টাকা ব্য়য়ে পদ্মা সেতু আমা‌দের অহংকার। দে‌শের ৬৫% এর বেশী জনগন তরুণ। প‌জি‌টিভ বাংলাদেশ এ‌গি‌য়ে চ‌লে‌ছে নিঃস‌ন্দে‌হে, দেশ এ‌গিছে‌য়ে তবু গা‌য়ে কা‌লিমাও কম নেই। বাংলা‌দেশ ব্যাংকের তথ্য অনুয়ায়ী সে‌প্টে/২১ হ‌তে জানুঃ/২২ এর ম‌ধ্যে দে‌শের ব্যাংকগু‌লো হ‌তে প্রায় ৫৫ হাজার কো‌টি টাকা হাওয়া হ‌য়ে গে‌ছে। আশংকা করা হ‌চ্ছে এত বিশাল অং‌কের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বি‌দে‌শে পাচার হ‌য়ে‌ছে। প্রায় ১০৫,০০০কো‌টি টাকা খেলাপী ঋণ নি‌য়ে ব্যাংকগু‌লি কিছুটা ঝুঁকির ম‌ধ্যে প‌ড়ে‌ছে। ১০/১১ ব্যাংকে মুলধন সংক‌টের খবর সক‌লেই জানা। এখ‌নো দে‌শে ৫ কো‌টি মানুষ দা‌রিদ্রসীমার নী‌চে বাস ক‌রেন। ৪র্থ শিল্প বিল্প‌বের দাড় প্রা‌ন্তে দা‌ড়ি‌য়েও শিক্ষার বা‌জে‌টে বরাদ্দ মাত্র ২% যা সার্কভুক্ত যে‌কোন দে‌শের থে‌কে কম। উচ্চ শিক্ষায় আ‌মে‌রিকায় যাওয়া শিক্ষার্থী‌দের তা‌লিকায় নেপালও বাংলা‌দে‌শের চে‌য়ে এ‌গি‌য়ে গে‌ছে। নেপাল১১৩ আর বাংলা‌দেশ অবস্থান কর‌ছে ১১৭ নম্ব‌রে। আন্তর্জা‌তিক কোন র‍্যাংকিংয়ে বাংলা‌দে‌শের কোন বিশ্ব‌দ্যিাল‌য়ের নাম সম্মানজনক অবস্থা‌নে থা‌কে না, থা‌কে ভারত,পা‌কিস্থান, শ্রীলন্কা নেপালের বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের নাম। এখ‌নোও বড় বড় আমলাগন পুকুর কাটা, ক‌্যা‌মেরা কেনা অথবা খিচুরী রান্না শিখ‌তে বি‌দে‌শে বেড়া‌তে যে‌তে আগ্রহী। এখ‌নো দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার ম‌ধ্যে আমা‌দের ইন্টার‌নেট, মোবাইল ডেটার গ‌তি সব‌চে‌য়ে কম। ১৯৬৫ সা‌লের জে‌লেপল্লী সিঙ্গাপুরকে লি কুয়ান ইউ বা ৮০এর দশ‌কে মাহা‌থির মোহাম্মদ মা‌লোশিয়া‌কে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর মাধ্যমে উন্নয়‌নের শীর্ষ পর্যা‌য়ে নি‌য়ে গে‌ছেন।দে‌শে প্রতি বছর প্রায় ২২লক্ষ শি‌ক্ষিত তরুন চাকুরীর বাজা‌রে প্রবেশ কর‌তে চাইলেও সরকারী বেসরকারীসহ নানা প্রতিষ্ঠা‌নে কা‌জে সংস্পৃক্ত হবার পরও প্রায় ১০/১২ লাখ তরুণ নি‌জে‌দের জন্য কোন চাকুরী জোগাড় কর‌তে না পে‌রে হতাশা গ্রস্থ হ‌য়ে প‌ড়েন। প্রকৃত উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের ধারায় দেশ‌কে নতুনরু‌পে গ‌ড়ে তোলার জন্য প্রথম এবং শেষ শর্ত মানব সম্পদের উন্নয়ন। সুতরাং মানব সম্পদ উন্নয়‌নে দেশ‌কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দি‌তে হ‌বে।
  Categories : Personal Blog  Posted by Sultan Mahmud  No Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *