Home » Personal Blog » “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” – কথাটা স্লোগান না, বরং এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা
  • “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” – কথাটা স্লোগান না, বরং এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা

    আমা‌দের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগ‌রিক‌দের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান নিশ্চিত করা।
    এর মূল কারিগরই কৃষক। বিষয়টা আরেকটু বিস্তা‌রিত আলোচনা করা যাক কি ব‌লেন!!
    কৃষক দেশের মেরুদণ্ড___

    @ খাদ্য নিরাপত্তাঃ কৃষক ৩.৮ কোটি টন চাল, ৪০ লাখ টন আলু, ২০ লাখ টন সবজি বার্ষিক উৎপাদন না কর‌লে দেশের মানুষের খাদ্য জোগাড় করতে এগু‌লো আমদানী কর‌তে হ‌তো। কয়েক বিলিয়ন ডলার বের হয়ে যেত। ফ‌লে রিজার্ভে চাপ বাড়‌তো এবং ডলার সংকট আরও তীব্র হ‌তো।
    @ কর্মসংস্থানঃ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪১% সরাসরি কৃষির সা‌থে সংম্পৃক্ত। পরোক্ষভাবে আরো ৭০%+।
    @ অর্থনীতিঃ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১১% আসে কৃষি থেকে। তাই কৃষক মার খেলে গ্রামীণ অর্থনীতি ধসে পড়‌বে।
    @ বৈদেশিক মুদ্রাঃ পাট, চা, চিংড়ি, আম, সবজি রপ্তানি করে বছরে আয় হয় ১ বিলিয়ন ডলার+।
    @ দারিদ্র্য বিমোচনঃ ২০০০ সালে দারিদ্র্যতা ছিল ৪৮.৯% কিন্তু ২০২২ সালে দা‌রিদ্রতা নেমে আসছে ১৮.৭% এ। এর পেছনে কৃষি প্রবৃদ্ধি মূল ভূমিকা রে‌খে‌ছে।
    @ বয়স ও অনাগ্রহঃ বাংলা‌দে‌শের কৃষকের গড় বয়স ৫৩ বছর। তরুণরা স্মার্ট কৃষি -তে সংম্পৃক্ত না হ‌লে ভবিষ্যত বাংলাদেশ কে খাদ্য সংকট মোকাবেলা করতে হ‌তে পা‌রে।

    এ অঞ্চলে সিজনে আমের কেজি থাকে মাত্র ৩০ টাকা। সিজন শেষে আমের বাই প্রোডাক্ট আমসত্ত্ব বিক্রি হয় কেজিতে ৮০০ টাকা। রাজশাহীর ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগের ব্র্যান্ড ভ্যালু পৃথিবীব্যাপি বিখ্যাত। তরুণরা প্রকৃতির এই ওপার সম্ভাবনা কে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও সম্বৃদ্ধ হবে।

    টেকসই উন্নয়ন বল‌তে শুধু জিডিপি বাড়ানো না।এর ৩টা পিলার র‌য়ে‌ছে তা হ‌লো অর্থনীতি, সমাজ এবং পরিবেশ। কৃষি একসাথে তিনটাই ধরে রেখেছে।
    সুতরাং সময় এসে‌ছে নিজ এলাকার সফল কৃষকদের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধ‌রে কৃষিকে পেশাটা‌কে ‘গ্ল্যামারাস’ করে তোলার।

    ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম ভাতের অধিকার, ভাষার অধিকার এবং ভোটের অধিকারের জন্য। কৃষক যদি ভাতের যোগান না দেয় ত‌বে তো স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে।
    আশাপ্রদ দিক হ‌চ্ছে আমা‌দের রাজশাহী অঞ্চলে আম, লিচু ও ড্রিপ ইরিগেশন জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই এখন অ্যাপ দিয়ে বাজারদর দেখেন।
    আম, লিচু, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, ড্রাগন ফল চাষ করে অনেকে ভাল লাভ করছেন।

    কৃষি কাজকে ছোট করে দেখার সু‌যোগ আর নেই। একজন কৃষক সমাজে একজন ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পেশাই সম্মানজনক।
    প‌রি‌শে‌ষে সহজ ভাষায় ব‌লি কৃষি এখন আর শুধু লাঙল-জোয়াল না। এটা বিজনেস,
    এটা টেকনোলজি, এটা ই দেশের সার্বভৌমত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *