যে শিশুটি আজ জন্ম নেবে উত্তরাধিকার সুত্রেই তার মাথায় প্রায় ৮৫,০০০ টাকা ঋণের দায় চাপবে। সরকার যে হারে ঋণ নিচ্ছে তাতে আগামি অর্থবছরে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিচু ঋণ দাড়াবে প্রায় ১০০,০০০ টাকা। এই অর্থবছরের বাজেটেও ঋণের সুদ পরিশোধের খাত ৩ নম্বরে রয়েছে (ব্যয় ৬৮,০০০ কোটি টাকা)। অন্যদিকে বাজেটে মানুষের মাথাপিচু বরাদ্দ প্রায় ৩৭,৩৩৩ টাকা। অর্থাৎ ঋণ মাথাপিচু বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুনের বেশি। কর ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন না হওয়ায় সরকার কে বেশি বেশি ঋণের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বন্ধু বেশে ঋণের ঝুড়ি নিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসছে। কিন্তু ঋণ করে ঘি খাবার অভ্যাসটা যেন মজ্জাগত না হয় সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা একান্ত প্রয়োজন। দার্শনিক এবং আমেরিকার ২য় প্রেসিডেন্ট জন এডামাস বলতেন “কোন ভূখন্ড বা দেশকে পদাবনত করতে তলোয়ারের বিকল্প হিসেবে ঋণ-অস্ত্রও ব্যবহার করা যায়”। সন্দেহ নেই আমেরিক দীর্ঘদিন এই তত্ত্ব চর্চা করে আসছে। তবে এই যুদ্ধাস্ত্র সবচেয়ে ভালভাবে কাজ লাগাতে পেরেছে চীন। তাই তো চীনেকে এখন বলা হচ্ছে “ঋণ সম্রাট”। এই ঋণ সম্রাট ঋণাস্ত্র প্রয়োগ করে এশিয়া ও আফ্রিকায় অচিরেই নতুন এক ঔপনিবেশিক যুগের সূচনা ঘটাতে যাচ্ছে সন্দেহ নেই। চীনের “ঋণফাঁদ” কীভাবে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে পারে তার সবচেয়ে বড় নজীর হলো শ্রীলঙ্কা। দেশটি চীনের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে দক্ষিণ হামবানতোতায় ১টি গভীর সুমদ্র বন্দর নির্মাণ করে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে গত ডিসেম্বরে বন্দরটিকে চায়না মার্চেন্টস হোল্ডিংসের কাছে ৯৯ বছরের জন্য লীজ দিতে বাধ্য হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার চারপাশের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে চীন প্রায় ১,৮০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। কাজেই সাবধান। এই সরল সত্য বাস্তবতাটা অনুধাবন না পারলে ভবিষ্যতে কি অপেক্ষা করছে জানা নেই!
Tags: ঋণ, ঋণ সম্রাট, ঋণফাঁদ, মাথাপিচু ঋণ
If you enjoyed this article please consider sharing it!
Colorway Wordpress Theme by InkThemes.com