Home » Uncategorized » ব্যাংক খাতে এখন একটা অদ্ভুত দ্বৈত চিত্র চলছে
  • ব্যাংক খাতে এখন একটা অদ্ভুত দ্বৈত চিত্র চলছে

    একদিকে ১০-১১ টা দুর্বল ব্যাংক গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না, অন্যদিকে ভালো ব্যাংকে টাকা অলস পড়ে আছে।

    জুন ২০২৬ এ ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত বা অলস তারল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে **৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা**।

    সিপিডির বল‌ছে ২০২৫ সালের মে মাসে মোট তরল সম্পদের বিপরীতে অতিরিক্ত তারল্যের হার ছিল ৪৩%, যা ২০২৬ সালের মার্চে বেড়ে ৫৫% হয়েছে। মানে ব্যাংকের কাছে যে তরল সম্পদ থাকার কথা, তার অর্ধেকের বেশি অলস পড়ে আছে।

    @ ক‌য়েক‌টি কারণে ভাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে

    তারল‌্য বাড়‌চ্ছেঃ

    ১. বিনিয়োগ স্থবিরতা ও ঋণ বিতরণে ভয়:

    ঋণখেলাপির লাগামহীন বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে আগ্রহ হারাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা উচ্চ সুদের হারের কারণে ঋণ নিচ্ছে না। নতুন বি‌নি‌য়োগ না হবার ফ‌লে টাকা ব্যাংকেই থেকে যাচ্ছে।

    ২. দ্বৈত ব্যাংকিং ব্যবস্থা:

    দেশের ব্যাংক খাত এখন দুই ভাগে বিভক্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই স্বীকার করেছে – “কোনো কোনো ব্যাংকে তারল্য বেশি হওয়ায় অস্বাভাবিক সুবিধা নিচ্ছে”।

    দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে। শুধু ইসলামী ব্যাংককেই বিশেষ ধারে ২,৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ফলে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েই যাচ্ছে।

    এই টাকা ঘুরে আবার ভালো ব্যাংকগুলোতে আমানত হিসেবে জমা হচ্ছে। ফলে ভালো ব্যাংকে তারল্য বাড়ছে, খারাপ ব্যাংক ফাঁকা হচ্ছে।

    ৩. সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ, কিন্তু টাকা ঘুরছে না:

    সরকার FY26 এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি, প্রায় ১.৪০ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। ২৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের স্থিতি ৬.৮৭ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা সরকার বিভিন্ন বিল পরিশোধে ব্যবহার করছে, যা আবার ব্যাংক ব্যবস্থায় ফিরে আসছে, কিন্তু ঋণ হিসেবে বের হচ্ছে না।

    ৪. মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সংকোচনমূলক নীতি ও টাকা ছাপানোর দ্বন্দ্ব:

    বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে পলিসি রেট ১০% রেখে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল ব্যাংক বাঁচাতে টাকা ছাপাচ্ছে। গভর্নর নিজেও বলেছেন, অতিরিক্ত সরকারি ঋণ মানি মার্কেটে চাপ তৈরি করছে।

    এই চা‌পের ঝুঁকি কী?

    ১. মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি: টাকা ছাপিয়ে তারল্য সহায়তা দিলে বাজারে টাকার যোগান বেড়ে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়তে পারে।

    ২. ক্রাউড আউট ইফেক্ট: সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না অর্থনীতিবিদরা বার বার সতর্ক করছেন।

    ৩. ব্যাংকের আয় কমবে: অলস টাকা পড়ে থাকলে ব্যাংককে আমানতের সুদ দিতে হচ্ছে, কিন্তু ঋণ থেকে আয় হচ্ছে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংক কী করছে?

    এই অলস তারল্য উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাতে ব্যাংকগুলো কম সুদে উৎপাদনমুখী খাতে ঋণ দিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত তারল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার (BB বিল) কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

    সহজ কথায়, এটা সুস্থ তারল্য বৃদ্ধি নয়। এটা হলো – ভয়, অনাস্থা ও বিনিয়োগ খরার কারণে টাকা ব্যাংকেই আটকে থাকা, যা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *